বরিশাল ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।
সোমবার (১২ জুন) সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল ৪টায়। দুই সিটিতেই ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হয়।
এতে বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে খুলনায় আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কা প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক এগিয়ে আছেন। আর বরিশালে এগিয়ে নৌকার আবুল খায়ের আবদুল্লাহ।
দুই সিটিতেই আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলেনর প্রার্থীরা। খুলনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল। আর বরিশালে দলটির প্রার্থী মো. ফজলুল করিম।
খুলনায় মোট ভোট কেন্দ্র ২৮৯টি। এ পর্যন্ত পাওয়া ৫০ কেন্দ্রের বেসরকারি প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক পেয়েছেন ২২,০৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামী আন্দোলেনর প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়াল পেয়েছেন ৫,৬৩১ ভোট। জাতীয় পার্টির প্রার্থী শফিকুল ইসলাম পেয়েছেন ২,০৫৭ ভোট।
বরিশাল সিটিতে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১২৬টি। এর মধ্যে ৭টি কেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফলে নৌকা প্রতীকের আবুল খায়ের আবদুল্লাহ পেয়েছেন ৪,৩০৪ ভোট। আর ইসলামী আন্দোলনের মো. ফজলুল করিম পেয়েছেন ১০০,৬ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বলছে, খুলনায় ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৫২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৮ হাজার ৮৩৩ জন এবং নারী ২ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯৬ জন।
এই সিটিতে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন পাঁচজন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের তালুকদার আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের শফিকুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের আব্দুল আউয়াল, জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকের এসএম সাব্বির হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী দেয়ালঘড়ি প্রতীকের এসএম শফিকুর রহমান মুশফিক।
এছাড়া ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে ১৩৬ জন ও ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যার মধ্যে নগরীর ১৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে দুই জন কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। খুলনার প্রতিটি ভোটকক্ষে একটি ও কেন্দ্রের সুবিধাজনক স্থানে দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। ভোটকেন্দ্রগুলো মোট ২ হাজার ৩১০টি ক্যামেরার আওতায় ছিল।
বরিশালে ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৬ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন এবং নারী ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন।
এই নির্বাচনে সাত জন মেয়র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত (নৌকা), জাতীয় পার্টির ইকবাল হোসেন তাপস (লাঙ্গল), বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের মুফতি ফয়জুল করিম (হাতপাখা), জাকের পার্টির মিজানুর রহমান বাচ্চু (গোলাপ ফুল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. কামরুল আহসান (টেবিল ঘড়ি), মো. আলী হোসেন হাওলাদার (হরিণ) এবং মো. আসাদুজ্জামান (হাতি)।
পাশাপাশি সিটির ৩০টি ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ১১৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের ১০টি পদের বিপরীতে ৪২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। নির্বাচনে দুই নারী সাধারণ কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের রোজিনা শেখ আয়শা ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের ফরিদা বেগম।
নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ১২৬টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। মোট ভোটকক্ষ ৮৯৪টি। প্রতিটি সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৭ জন সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেন।



