Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বৃষ্টিতে উপকূল জুড়ে ভোগান্তি, দুবলার চরে কোটি টাকার শুটকি ক্ষতিগ্রস্ত

গত নভেম্বর দুবলার চরের শুটকি থেকে ৫৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে, আর ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা

আপডেট : ০৩ মার্চ ২০২২, ০৫:০৮ পিএম

ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ শক্তি হারিয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হলেও সারাদেশে অব্যাহত রয়েছে বৃষ্টিপাত। শনিবার সকাল থেকে উপকূলীয় এলাকা খুলনাঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া ও গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। যা রবিবার ধীরে ধীরে বাড়তে থাকার সোমবার গতি পেয়েছে। নদীতে পানি বাড়ছে। জোয়ারে পানির উচ্চতাও বাড়ছে। তিন ধরে উপকূলে সূর্যের দেখা নেই। এমন পরিস্থিতিতে শুকাতে না পেরে দুবলার চরে শুঁটকি নষ্ট হচ্ছে। কয়রায় বাঁধ ভেঙে ও ভেঙে ২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ছুটতে গিয়ে চরম ভাগান্তিতে পড়ছে কর্মব্যস্ত মানুষেরা। খুলনার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অফিস-আদালত ছুটে চলা কর্মব্যস্ত মানুষ, বিভিন্ন বাজার, পাড়া-মহল্লার অলিতে গলিতে সকল বয়সের মানুষ দূর্ভোগে পড়ছেন। সারাদিন বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট, ছোট বড় গর্তে জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টিতে নগরীতে যানবহনের সংখ্যা রয়েছে সীমিত।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, গত ৩দিনে খুলনায় ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। সোমবার সারাদিন একই অবস্থা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। 

এদিকে, বঙ্গোপসাগর পাড়ের সুন্দরবনের দুবলার চরে শুকানোর জন্য রাখা প্রায় ২০ লাখ কেজি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। যার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। এতে রাজস্ব আয়ের ঘাটতিতে পড়েছে বনবিভাগও।

পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দুবলা জেলে পল্লীর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, “ঘূর্ণিঝড়ের কারণে তিনদিন ধরে তিন ফুটের অধিক জোয়ারের পানিতে দুবলার চর তলিয়ে যাওয়ায় মাছের ক্ষতি হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ থাকায় জেলেরা জাল, নৌকা-ট্রলার নিয়ে চরে অবস্থান করছে। খারাপ আবহাওয়ায় মাছ শুকাতে না পারায় সেগুলো পঁচে যাচ্ছে।”

তিনি জানান, গত নভেম্বর এ চরের শুটকি থেকে ৫৭ লাখ টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে, আর ডিসেম্বরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। কিন্তু ক্ষতির কারণে অর্ধেকে নেমে আসবে রাজস্ব আয়। 

চরটিতে জেলে ও মহাজন মিলিয়ে প্রায় ১০ হাজার লোক রয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এ শুটকি মৌসুম চলবে আগামী মার্চ মাস পর্যন্ত।

 অন্যদিকে, সাতক্ষীরার শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে প্লাবিত হওয়া কয়রার গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রামের দুইশ’ পরিবার দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এলাকাবাসী জানায়, চলতি বছরের ২৬ মে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে একই স্থানে ভেঙেছিল। ওই স্থানের বেড়িবাঁধ নির্মাণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার নিয়োগ দিয়েছিল। কিন্তু ঠিকাদার সঠিক নিয়মে বাঁধ নির্মাণ না করায় আবার ভেঙ্গে প্লাবিত হয়।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বিভাগ-২) উপ-সহকারী প্রকৌশল মশিউল আবেদিন বলেন, “ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে শাকবাড়িয়া নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় হরিহারপুর লঞ্চঘাটের পূর্বপাশে ভেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। ওই স্থানে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া আছে। দ্রুত সময়ের মধ্য ওই এলাকার মানুষকে পানিবন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করা যাবে।” 

কয়রা উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, “শাকবাড়িয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ও পানি উপচে গাতিরঘেরী ও হরিহারপুর গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি মানুষের জন্য ইতিমধ্যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া শীত নিবারণের জন্য শীতবস্ত্র প্রদান করা হয়েছে।”

About

Popular Links