দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির আশপাশের দুই গ্রামের বাসিন্দারা আবারও নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা সামনে আনলেন। তারা জানান, কয়লা উত্তোলনের কারণে তাদের ঘরবাড়িতে ফাটল ধরেছে, টিউবওয়েলে পানি মিলছে না। যখন-তখন ঘরবাড়ি ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠছে। এতে এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সোমবার (২৪ জুলাই) সকালে পার্বতীপুরের পাঁচঘরিয়া ও পাতিগ্রামের বাসিন্দারা তাদের সুরক্ষা চেয়ে মানববন্ধন করেছেন। এতে ভূমি ও বসতবাড়ি রক্ষা কমিটির সভাপতি মতিয়ার রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ আলী মন্ডল বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কয়লা খনির জমি অধিগ্রহণের বাইরে রয়েছে পাঁচঘরিয়া ও পাতিগ্রাম। এই দুই গ্রামের বাড়ি-ঘরের দেয়াল বিকট শব্দে ফেটে যাচ্ছে। টিউবওয়েল থেকে পানি উঠছে না। রাতে ঘুমাতে ভয় পাচ্ছি। খনি কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
এই দুই গ্রামের জায়গা জমি অধিগ্রহণের দাবি জানান তারা। একইসঙ্গে খনিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের চাকরি দেওয়ার দাবিও জানানো হয়। দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়া না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
বড় পুকুরিয়া খনি থেকে কয়লা উত্তোলন শুরুর পর আশপাশের এলাকায় ছাইয়ের সৃষ্টি হয় এবং ভূমিতে দেখা দেয় ফাটল। এরপর সরকার ওই এলাকার মানুষকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে অন্য স্থানে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২০১০ সালের ৯ নভেম্বর একনেকে ১৯১ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়। ২০১৪ সালে খনি কর্তৃপক্ষ খনি এলাকায় ৬৪৬ একর ভূমি অধিগ্রহণ করে।
১৯৯৪ সালের জুন মাসে “বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি উন্নয়ন প্রকল্প”র আওতায় বাংলাদেশের প্রথম কয়লাখনিটির উন্নয়নকাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় ধরা হয় ১,৩৬৫.৬৬ কোটি টাকা। তবে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু হয় ২০০৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে।
মোট মজুত প্রায় ৪০০ মিলিয়ন টন হলেও, ২০০৫ সাল থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মাত্র ১৪ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করা হয়েছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বরে, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কোম্পানি চীনের শোঝু কোল মাইনিং গ্রুপ লিমিটেড এবং চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন (সিএমসি) এর একটি কনসোর্টিয়ামের সাথে ভূগর্ভস্থ সড়ক নির্মাণ, কয়লা উত্তোলন, পরিচালনা এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ছয় বছর মেয়াদি একটি চুক্তি সই করে।
ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন চুক্তির আওতায়, সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়াম ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৪.৫ মিলিয়ন টন কয়লা উৎপাদন করবে। গত বছর খনিটি থেকে প্রায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) টন কয়লা উত্তোলন করেছে কনসোর্টিয়ামটি। বর্তমানে দৈনিক উত্তোলন করছে প্রায় ৩,৫০০ টন।
চুক্তির অধীনে, ঠিকাদারটি আগামী চার বছরে অতিরিক্ত আরও ৩.৫ মিলিয়ন টন কয়লা উত্তোলন করবে। কিন্তু, এরপরে কয়লা উত্তোলনের আর কোনো অনুমোদিত পরিকল্পনা নেই।



