Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২২ বছর পর মিজানকে পেল পরিবার

শনিবার ভোরে তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কাছে হস্তান্তর করা হয়, সেখান থেকে সোমবার তিনি পরিবারের কাছে ফিরেছেন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ০৫:৪৬ পিএম

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শুক্রবার এলোমেলোভাবে ঘুরছিলেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। তবে পরিবারের পরিচয়, বাড়ির ঠিকানা বলতে পারছিলেন না তিনি।

এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) তাকে দেখতে পেয়ে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কাছে হস্তান্তর করে। প্রতিষ্ঠানটি তার ছবি ও পাসপোর্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে পরিবারের সন্ধান চায়।

দুবাইতে বসবাসকারী ওসমান গনি নামে এক ব্যক্তি একটি পোস্ট দেখে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। 

জানা যায়, তার নাম মিজানুর রহমান। অবশেষে রবিবার (২০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সদরঘাট এলাকায় পরিবারের কাছে ফিরে যান তিনি। 

তার পরিবার জানায়, মিজানুর ২০০১ সালে সৌদি আরব যান। সেখানে ট্যাক্সি চালাতেন। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তার।

পাসপোর্ট অনুযায়ী তার নাম মো. মিজানুর রহমান। বয়স ৫৭। বাড়ি চট্টগ্রামে কোতোয়ালি থানার ১২০ সদরঘাট রোড। বাবার নাম আব্দুল জব্বার, মায়ের নাম ফাতেমা বেগম।

সোমবার এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটে মিজানুর ঢাকায় পৌঁছান। এ সময় তিনি উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। স্বজনদের ঠিকানা বলতে পারছিলেন না, কোথায় যাবেন তাও বলতে পারছিলেন না। তার পরিবারের সন্ধান পেতে আমরা ব্রাকের সহায়তা নেই।”

শনিবার ভোরে তাকে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখান থেকে সোমবার তিনি পরিবারের কাছে ফিরেছেন।

ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, শনিবার মিজানুরকে ঢাকায় ব্র্যাক সেন্টারে নিয়ে আসা হয়।

তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ নন। তার বাম পায়েও ক্ষত রয়েছে। তার পাসপোর্টে দেওয়া জরুরি নম্বরে কল করে, আমরা জানতে পেরেছি সেটি পরিবারের কারও নম্বর নয়, বরং যে দালাল পাসপোর্ট করে দিয়েছিল তার নম্বর।

তিনি আরও বলেন, “চট্টগ্রামের পুলিশকে ছবি ও পাসপোর্টের বিস্তারিত জানাই। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও পাসপোর্ট দিয়ে তার পরিবারের খোঁজ করি। আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলি। সেই ছবি ও পোস্ট দেখে দুবাই থেকে ওসমান গনি নামে একজন ফোন দিয়ে জানান মিজানুর তাদের ভাই।”

শরিফুল হাসান বলেন, “সরকার বিদেশ থেকে ফিরে আসা মানুষের কল্যাণে রেইজ নামে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।”

তিনি বলেন, “এই প্রকল্প বাস্তবায়নে কাজ করছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড। এজন্য সারা দেশে ৩০টা ওয়েলফেয়ার সেন্টার করেছে। মিজানুরের মতো মানুষরা সেই প্রকল্পে সহায়তা পেতে পারেন।”

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০০১ সালে সৌদি আরব যাওয়ার পর মিজানুর আর দেশে ফেরেননি। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে তাকে খুঁজে পান।

মিজানুরের আত্মীয় আমির হামজা বলেন, “মিজানুরের পরিবারের সাথে দুই দশক ধরে যোগাযোগ নেই। তিনি সৌদি আরবে ট্যাক্সি চালাতেন। ছেলের শোকে তার বাবা মারা গেছেন। মা বেঁচে আছেন। তারা ছয় ভাই। মিজানুরকে দেখার জন্য তার মা অস্থির হয়ে আছেন।”

About

Popular Links