Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইবি ছাত্রী নির্যাতন: ছাত্রলীগ নেত্রীসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে স্থায়ী বহিষ্কার

এ সিদ্ধান্ত আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হবে

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪৯ পিএম

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেত্রী সানজিদা চৌধুরী ওরফে অন্তরাসহ পাঁচ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ঘটনার ছয় মাস পর চূড়ান্ত এই সিদ্ধান্ত নিলো বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট।

সোমবার (২১ আগস্ট) বিকাল সাড়ে ৫টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬০তম জরুরি সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় ইবির প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর এম মাহবুবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ এম আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচএম আলী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এইচ. এম আলী হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বহিষ্কৃতরা হলেন ইবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরা, ছাত্রলীগ কর্মী ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগের তাবাসসুম ইসলাম, আইন বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের ইসরাত জাহান মীম, ফাইন আর্টস বিভাগের হালিমা খাতুন উর্মী এবং ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের মোয়াবিয়া। অন্তরা ছাড়া সবাই ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ১৬ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক বছরের জন্য সাময়িক বরখাস্ত করলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিধি অনুযায়ী শাস্তি না হওয়ায় গত ২৬ জুলাই হাইকোর্ট ওই আদেশ বাতিল করেন।

আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আচরণবিধি ১৯৮৭ অনুসরণ করে শাস্তি পুনর্নির্ধারণ করতেও বলেছেন।

ইবি প্রক্টর এম শাহাদাত হোসেন আজাদ বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্তরা ও তার চার সহযোগীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত আগামী ২৩ আগস্টের মধ্যে হাইকোর্টে পাঠানো হবে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী বলেন, অন্তরা ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আমি সন্তুষ্ট।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে এমন জঘন্য কাজ কেউ করতে সাহস পাবে না।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের গণরুমে ডেকে রাত ১১টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ইবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সানজিদা চৌধুরী অন্তরার নেতৃত্বে আরও কয়েকজন নির্যাতন করে নবীন শিক্ষার্থী ফুলপরীকে তাকে বিবস্ত্র করে মারধর এবং নির্যাতনের ঘটনা ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

পরদিন সকালে ভয়ে ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে যান ওই ছাত্রী। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর ঘটনার বিবরণ দিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।

এ ঘটনায় আইন বিভাগের অধ্যাপক রেবা মন্ডলকে আহ্বায়ক করে ১৫ ফেব্রুয়ারি পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন উপাচার্য। এছাড়া হল প্রশাসন, শাখা ছাত্রলীগও একাধিক তদন্ত কমিটি গঠন করে।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গঠিত দুটি তদন্ত সংস্থা গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

দেশরত্ন শেখ হাসিনা হল প্রশাসন গত ২৭ ফেব্রুয়ারি পাঁচ অভিযুক্তকে বহিষ্কার করে। ১ মার্চ বাংলাদেশ ছাত্রলীগ অন্তরা ও চার কর্মীকে নারী ছাত্রীকে নির্যাতন ও অপমান করার দায়ে বহিষ্কার করে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে হাইকোর্ট বেঞ্চ ১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের বহিষ্কারের নির্দেশ দেন।

আদালত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে অবিলম্বে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট শামসুল আলম এবং হাউস টিউটর মৌমিতা আক্তার এবং ইশরাত জাহানকে তাদের অবহেলার অভিযোগে অপসারণের নির্দেশ দেন।

ইবি কর্তৃপক্ষ পরে অভিযুক্ত পাঁচ শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত করার পাশাপাশি দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট শামসুল আলমকে অপসারণ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্তরা এবং তার চার সহযোগীকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগের জবাব জমা দিতে বলেছে।

হাইকোর্টের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ছাত্রীকে ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে তার পছন্দে একটি আসন বরাদ্দ দেয়।

   

About

Popular Links

x