সারাদেশে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডাবের দাম। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনায় অভিযানে নেমেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ফরিদপুরে ভোক্তা অধিদপ্তরের লোকজনকে দেখে ডাব রেখেই পালিয়েছেন কয়েকজন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে শহরের বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এদিন শহরের হাসপাতালগুলোর পাশে ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোতে সহনীয় মূল্যে ডাব বিক্রির নির্দেশনা দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ।
ভোক্তা অধিদপ্তরের টিম বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গেলে ভ্যানে ডাব রেখেই সটকে পড়েন কয়েকজন ব্যবসায়ী। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা করেও তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেখানকার এক ফার্মেসির কর্মচারী জানান, পুলিশ দেখে ডাব ব্যবসায়ীরা ভ্যান ছেড়ে কোথাও চলে গেছেন।
অভিযানের সময় মেডিকেল কলেজের সামনে বসা কয়েকজন ব্যবসায়ী অল্প লাভে ডাব বিক্রি করবেন বলে ঘোষণা দেন।
ফরিদপুর মেডিকেলের সামনে পাইকারি দরে ডাব বিক্রি করতে এসেছিলেন সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাসিন্দা হানার মন্ডল। তিনি প্রতিটি ডাবের জন্য ৯০ টাকা দর হাঁকেন। তার দাবি, প্রতিটি ডাব তিনি ৫০ টাকা দরে কিনে এনেছেন।
ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ তাকে স্বল্প লাভে বিক্রির জন্য বোঝাতে সক্ষম হন। এরপর পাইকারি বিক্রেতা বড় ডাব ৮০ টাকা, মাঝারি ৭০ টাকা ও ছোট ডাব ৬০ টাকায় বিক্রি করে দেন।
পাশাপাশি শহরের ঝিলটুলি জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতাল, সুপার মার্কেট, জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রের সামনে ব্যবসায়ীদের স্বল্প লাভে ডাব বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর ব্যত্যয় ঘটলে জেল-জরিমানা শাস্তি হবে বলে সতর্ক করে দেওয়া হয়।
অভিযানের প্রত্যক্ষদর্শী ক্রেতারা বলেন, অভিযানের আগে ১৫০ টাকার নিচে ডাব বিক্রি হয়নি। বরং আরও বেশি ছিল। অভিযানের খবরে মুহূর্তে ডাবের দাম ১০০ টাকার নিচে চলে এসেছে।

আরিফ মন্ডল নামে এক ক্রেতা বলেন, “অভিযানের খবরে ডাব ব্যবসায়ীরা দাম কম রাখতেছে। তারা চলে গেলে আবার বেশি দামে বিক্রি করতে শুরু করবে। অনেক ব্যবসায়ীর সঙ্গে তো ঠিকমতো কথাও বলা যায় না। দামাদামিও করা যায় না। বলে, ‘নিলে নেন, না নিলে না নেন’।”
এ বিষয়ে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ বলেন, “ডাব আমাদের দেশীয় ফল। হঠাৎ করে এই ডাব মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এজন্য আমাদের মহাপরিচালকের নির্দেশে বাজারে ডাবের দাম সহনীয় রাখতে আমাদের তদারকি ও অভিযান। আমরা ডাব ব্যবসায়ীদের সচেতন করেছি, স্বল্প লাভে ডাব বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করেছি। সেই সাথে ডাব ক্রয়ের রশিদ ও বিক্রয়ের তালিকা রাখতে বলা হয়েছে। ডাবের দাম নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত তদারকি থাকবে।”
অভিযানে সহায়তা দেয় জেলা পুলিশের একটি দল। মঙ্গলবারের অভিযানে কাউকে জরিমানা করা হয়নি।



