প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করেছি এবং গণতন্ত্র অর্জন করেছি। আমরা গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আদর্শ গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখা এবং আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।”
বুধবার (১১ অক্টোবর) রাতে গণভবনে ঢাকা সফররত যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠকে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের কাছে বৈঠকের বিষয়ে তুলে ধরেন।
প্রেস সচিব ইহসানুল বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন।”
শেখ হাসিনা বলেন, “১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার পর সামরিক শাসকরা অস্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে এবং বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল গঠন করে। ২০০৭-২০০৮ সালের সেনাবাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আমাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। দেশে ফিরলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মৃত্যুর হুমকি উপেক্ষা করে দেশে ফিরি।”
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ন্যায় মানুষের মৌলিক অধিকার- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা নিশ্চিত করাই আওয়ামী লীগ সরকারের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। চরম দারিদ্র্যের হার ৫.৬% এ নামিয়ে আনার কথাও তুলে ধরেন সরকারপ্রধান।
ইহসানুল করিম জানান, মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতা বনি গ্লিক বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়ন হয়েছে। কূটনীতিকসহ সব অংশীজনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তাদের লক্ষ্য হলো সব অংশীজনের কথা শোনা’।
প্রতিনিধি দলের সদস্য ও যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্ল এফ ইন্ডারফার্থ বলেন, “গণতন্ত্রের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যা আছে এবং এমনকি সমস্যাগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও রয়েছে।”
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এ আরাফাত, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।



