কোনো দম্পতি যখন সন্তান নিতে চায়, তখন স্বামীর ভূমিকা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ বলে আমাদের দেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে ধরে নেওয়া হয়। গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনে অনেক আশা ও আনন্দের সময়; তবু এই সময় নারীরা তাদের সদ্যোজাত সন্তানের স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ঠ উদ্বিগ্ন ও অধীর থাকে। এছাড়া এই পরিস্থিতিতে একজন নারীকে তার নিজের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা, জৈবিক নানারকম জটিলতা ও সামাজিক- সাংস্কৃতিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়। এই অবস্থায় একজন নারীর জীবনে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার স্বামীর ভূমিকা। সেই সঙ্গে গর্ভাবস্থায় স্ত্রীর জীবনে তার স্বামীর সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
যেসব স্বামীরা গর্ভাবস্থায় স্ত্রীকে সবরকম সহায়তা করে সেসব নারীর মানসিক চাপ অনেক কম হয়। সেই সঙ্গে গর্ভাবস্থায় এবং সন্তানের জন্মের পরও তাদের জীবন খুব সুস্থ-সুন্দরভাবে এগিয়ে চলে। তাই হবু বাবার দায়িত্ব-কর্তব্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা একজন স্বামীর জন্য জরুরি। এক্ষেত্রে তাদের করণীয় হলো-
- মা যাতে সুস্থ বাচ্চার জন্ম দিতে পারে সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা। এই পরিকল্পনার মধ্যে থাকে চিকিৎসার জন্য অর্থের জোগান, সন্তানের জন্মের আগে ও পরে স্ত্রীকে এমনভাবে সাহায্য করা যাতে সে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতে পারে এবং সদ্যোজাত সন্তানকে নিয়ে যাতে মা তার বাড়িতে স্বস্তিতে থাকতে পারে তার ব্যবস্থা করা।
- হবু মাকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া, গর্ভাবস্থাকালীন পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা এবং গর্ভধারণজনিত জটিলতাগুলো বোঝার চেষ্টা করা। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর প্রয়োজনীয়তার দিকে সুক্ষ্ম নজর রাখা।
- যেহেতু অধিকাংশ শহুরে পরিবারগুলো একক পরিবার হয় সেহেতু স্বামীদের ওপরেই স্ত্রীদের শারীরিক পুষ্টি ও দেখাভালের দায়িত্ব এসে পড়ে। এক্ষেত্রে পরিকল্পনামাফিক চলা একজন স্বামীর জীবনে অবশ্যকর্তব্য।
- গর্ভাবস্থার সময়ে নারীদের মেজাজ-মর্জির ঘনঘন বদল ঘটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। তাই এই সময় স্বামীদের ধৈর্যশীল হওয়া ও স্ত্রীদের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া একান্ত প্রয়োজন।
- গর্ভাবস্থায় স্ত্রী যাতে আনন্দে থাকতে পারে সেজন্য হাসিঠাট্টা করা, তার প্রতি মনোযোগ ও খেয়াল রাখা স্বামীর অন্যতম দায়িত্ব।



