নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা বন্ধে সব দলকে আন্তরিক হতে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
তিনি বলেছেন, “আমরা কাউকে নির্বাচনে বাধা দিতে দেব না। সহিংসতা বন্ধে সব দলের ইচ্ছা ও আন্তরিকতা থাকতে হবে।”
শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই সরকারের আমলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের নানা অগ্রগতি হয়েছে। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করি। শুধু বাংলাদেশে নয়, যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশেই মানবাধিকার পরিস্থিতি ও নানা ইস্যুতে পরামর্শ দিয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে তারা মত দিচ্ছে। আমরা বরাবরই সকল পরামর্শ বিবেচনা করে থাকি। যেসকল বিষয় গ্রহণযোগ্য তা আমরা আমলে নেই।”
মোমেন মনে করেন, কিছু প্রবাসী সাংবাদিক ও কিছু বাঙালি নাগরিক এক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রে নেমেছে। তার অভিযোগ, “কিছু সংখ্যক প্রবাসীদের কারণেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে।”
এক প্রশ্নের জবাবে মোমেন বলেন, “আওয়ামী লীগ কখনো সংলাপে পিছপা হয়নি। আওয়ামী লীগ মনে করে সংলাপ ভালো। আওয়ামী লীগ নির্বাচনমুখী দল। প্রধানমন্ত্রী গত ১৫ বছরে দেশে কয়েক হাজার নির্বাচন করেছেন। মোটামুটিভাবে অধিকাংশ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, এক-দুইটিতে হয়তো অনিয়ম হয়েছে। তবে সেই নির্বাচনগুলো বানচালও হয়েছে।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা নির্বাচন চাই। আর এই নির্বাচনে যদি কোনো বন্ধু রাষ্ট্র সহায়কের ভূমিকা পালন করে, তাহলে তাদের স্বাগত জানাব।”
ড. মোমেন বলেন, “আমাদের বিরোধী দল বিএনপি ২৮ অক্টোবর শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করার ঘোষণা করেছিল। কিন্তু, সেখানে তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে জ্বালাও-পোড়াও করা। যারা কোনো দলের না বিচারকদের বাসভবনে জ্বালাও-পোড়াও করল। হাসপাতালেও জ্বালাও পোড়াও করল। সাধারণ জনগণের প্রায় ১৫৪টি বাস পোড়াল। বাসের মালিক তো সরকার না।”
তিনি বলেন, “আমরা আশা করব, যে বিপদগামী দলগুলো আছে তারা পরিপক্কতা অর্জন করে নির্বাচনমুখী হবে। যাতে আমরা শান্তিপূর্ণ মডেল নির্বাচন করতে পারি।”



