ভারত পেঁয়াজের রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর দেশের বাজারে পণ্যটি নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। দুয়েক দিনের ব্যবধানে কোথাও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে একশো টাকা পর্যন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
দেশের বাজারে আর কিছু দিনের মধ্যেই নতুন পেঁয়াজ ঢোকার কথা রয়েছে। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক জায়গায় কৃষকেরা অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।
আবার কোথাও চুরি ঠেকাতে পেঁয়াজের খেতে বসানো হয়েছে পাহারা।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে জানায়, কৃষকেরা অপরিপক্ক পেঁয়াজ তুলতে শুরু করেছেন। রাজবাড়ীর অনেক এলাকায় এমনটি দেখা গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, পেঁয়াজের মৌসুমে প্রত্যেক বছর ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন তারা। তাই বাজারে দাম থাকতেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা পেঁয়াজ তুলছেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মো. ইউসুফ খাঁ নামের এক কৃষক বলেন, প্রতি বছর পেঁয়াজ-রসুনে লোকসান হয়। এবার বাজারে বেশি দাম হওয়ায় আমরা পেঁয়াজ ওঠাতে শুরু করেছি। কারণ পরে যদি দাম কমে যায়।
পেঁয়াজ অসময়ে ওঠালে উৎপাদন কমে যাবে এমন প্রশ্নে এই কৃষক কৃষক বলেন, “আমরা একটি সম্মানজনক দাম পাবো এই নিশ্চয়তা কে দেবে? পেঁয়াজের সঠিক দামের নিশ্চয়তা পেলে অসময়ে তুলতাম না। যে কারণে বাজারে বেশি দাম থাকায় অতিরিক্ত লাভের আশায় আমরা কমপক্ষে ১৫ দিন আগেই পেঁয়াজ ওঠাতে শুরু করেছি। আশা করি এবার পেঁয়াজে আমরা কিছুটা লাভবান হবো।”
গোয়ালন্দ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোকন উজ্জামান বলেন, “অসময়ে অপরিপক্ব পেঁয়াজ ওঠালে কিছুটা উৎপাদন কমে গেলেও কৃষক সরাসরি বেশি দাম পাবে। আবার এই জমিতে পেঁয়াজ উঠিয়ে হালি পেঁয়াজ অথবা ভুট্টা লাগাতে পারবে। শুধু পেঁয়াজ নয়, যেকোনো ফসলে বেশি দাম পেলে কৃষক-চাষি উৎসাহ পাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আর ১০-১৫ দিন পেঁয়াজগুলো কৃষকেরা তুললে তারা বিঘা প্রতি আরও ১-১৫ মণ বেশি পেতো, কিন্তু তারা লাভের আশার এখনি পেঁয়াজ তুলে বাজারজাত করছে।”
অন্যদিকে খেতের পেঁয়াজ চুরি ঠেকাতে পাহারা বসিয়েছেন কৃষকেরা। রাত জেগে তারা তাঁবুতে বসে পেঁয়াজ পাহারা দিচ্ছেন। রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো।
পেঁয়াজ খেত পাহারা দেখতে সেমাবার সন্ধ্যায় গোদাগাড়ীর একটি গ্রামে গিয়েছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমদ।
তিনি সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “খেতের পেঁয়াজ এখনো পরিপক্ব হয়নি। তবে বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ার খবর শুনে চাষিরা পেঁয়াজ তোলার জন্য অস্থির হয়ে উঠেছেন। পেঁয়াজ পরিপক্ব হতে ১০-১৫ দিন সময় লাগবে। তখন বিঘাপ্রতি ফলন অন্তত দেড়শো মণ হতে পারে। এখনো পেঁয়াজের গাছ সবুজ রয়েছে। পরিপক্ব বা উপযুক্ত মানে হারভেস্টিংয়ের সময় এই গাছ সবুজ থাকবে না। নরম হয়ে হেলে পড়বে। একটি পেঁয়াজ মোটামুটি ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হবে।”



