Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সাংবাদিককে ছবি তোলায় বাধা দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট বললেন, ‘অনুমতি নিয়ে আসেন’

পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে তিনি ওই সাংবাদিকের ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে দেন

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৩:৩৭ পিএম

মানিকগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ছবি তোলার সময় সাংবাদিককে বাধা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ শাখা) সাবিহা সুলতানা ডলি। সরকারের এই কর্মকর্তা সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি মুছে ফেলার নির্দেশ দেন পুলিশ সদস্যদের। 

রবিবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মানিকগঞ্জের ওয়্যারলেস গেট এলাকায় পালস ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে এ ঘটনা ঘটে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমের সংবাদ সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন জাতীয় দৈনিক যায়যায়দিনের মানিকগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি আসিফ খান মনির।

এ সময় সাংবাদিক মনিরকে অপদস্থ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। বলেন, “ছবি তুলতে হলে জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমতি নিয়ে আসতে হবে।” পাশাপাশি তিনি পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ধারণ করা ছবিগুলো মুছে দেন। 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আসিফ খান মনির বলেন, “বেসরকারি হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে জানতে পেরে সংশ্লিষ্ট একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি আমাকে পালস ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিতে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আমার ফোন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দু-তিনটি ছবি তুলি। কর্তব্যরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবিহা সুলতানা ডলি জানতে চাইলে আমি সাংবাদিক পরিচয় দিই। এরপরও তিনি উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে আমার মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার ও ছবিগুলো ডিলিট করার নির্দেশ দেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছবিগুলো ডিলিট করে দেন।”

ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমাকে বলেন, “ছবি তুলতে হলে ডিসি স্যারের লিখিত অনুমতি নিয়ে আসেন।”

বিষয়টি নিয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাবিহা সুলতানা ডলির মুঠোফোনে  সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “ছবি তোলার আগে এডিএম স্যার অথবা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট স্যারের অনুমতি নিয়ে এলে ছবি তোলা অ্যালাও করব।”  

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন মোয়াজ্জেম আলী খান বলেন, “অভিযানের সময় সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকতে বলা হয়। আমি যেহেতু ঘটনাস্থলে ছিলাম না, সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার বিষয়টি জানা নেই।”

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রেহানা আকতারের ভাষ্য, “ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময়ে সাংবাদিকদের ছবি তোলার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। অনুমতিরও প্রয়োজন নেই। যিনি সাংবাদিকদের ছবি তুলতে নিষেধ করেছেন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি দেখছি।”

এদিকে, ঘটনাটি জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টিতে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকেই।

   

About

Popular Links

x