Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাহাঙ্গীরনগরে বিক্ষোভ চলছেই

জাবি ক্যাম্পাসে কয়েক দফা কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৪০ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক দম্পতিকে ডেকে নিয়ে স্বামীকে মীর মশাররফ হোসেন হলের একটি কক্ষে আটকে রেখে পাশের জঙ্গলে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী গণ-পোস্টারিং শুরু হয়।

দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা ও মীর মশাররফ হোসেন হলের সামনে যায়। হলটির সামনে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন তারা। পরে নতুন কলা ভবনের সামনে গিয়ে মিছিলটি শেষ হয়।

গণ পোস্টারিংয়ের সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্ষণের ঘটনার আগেও বহু নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিপীড়কদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই আছে। আমরা ধর্ষকদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ এর আগের নিপীড়নের অমিমাংসিত ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিত চাই।”

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ধর্ষণ ও নিপীড়ন বিরোধী স্লোগান দেন। 

এ সময় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মৃধা বলেন, “যারা ধর্ষকদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা তাদের আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই। এ ধরনের ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। প্রশাসনের কাছে দাবি থাকবে যে, যেসব শাস্তি ধর্ষকদের দেওয়া হয়েছে তার যেন যথাযথ বাস্তবায়ন হয়। তা নাহলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

সজিবুর রহমান সজীব নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “বহিরাগতের প্রবেশে যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে সেটি যেন বাস্তবে প্রতিফলন দেখা যায়। হল থেকে দ্রুততম সময়ে অছাত্রদের বের করতে হবে।”

এদিকে, দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের শিক্ষক লাউঞ্জে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেখানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ধর্ষণ ও নিপীড়নমূলক ঘটনাগুলোর বিচার নিশ্চিতে আন্দোলনের রূপরেখা বাস্তবায়নে “নিপীড়নের বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর” নামে প্ল্যাটফর্ম ঘোষণা করা হয়।

এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হবে।

শনিবার রাতের এ ধর্ষণের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হলে গতকাল রবিবার বিকেলে জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করে প্রশাসন। সেখানে তিন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার ও তাদের সনদ স্থগিত করা হয়। পাশাপাশি এই তিনজনসহ আরও তিন শিক্ষার্থীর সনদ স্থগিত ও তাদেরকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এছাড়া ধর্ষণে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্তও নেয় প্রশাসন।

এদিকে, ধর্ষণে অভিযুক্ত ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার মো. আবু হাসান।

   

About

Popular Links

x