Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার চেষ্টা, ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে মাদারীপুরের তিন তরুণের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের ‍মুকসুদপুর উপজেলার আরেক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩১ এএম

অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইতালি যাওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে তিউনিশিয়ার জলসীমায় নৌকাডুবে মাদারীপুরের তিন তরুণের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এদের মধ্যে একজন সদর উপজেলার এবং অন্য দুজন রাজৈর উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া এ ঘটনায় গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার আরেক তরুণ নিখোঁজ রয়েছেন। ভুক্তভোগীদের স্বজনদের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

মৃতরা হলেন- সদর উপজেলার পশ্চিম পাঁচখোলা গ্রামের আলী আকাব্বরের ছেলে মো. সম্রাট (২৪), রাজৈর উপজেলার খালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম স্বরমঙ্গল গ্রামের ইউসুফ আলী শেখের ছেলে মামুন শেখ (২০) ও সেনদিয়া গ্রামের সুনীল বৈরাগীর ছেলে সজল বৈরাগী (২৫)। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন মকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের পান্নু শেখের ছেলে আপন শেখ।

শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ওই তিন তরুণের মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছায়। এতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। এ ঘটনায় দালালের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তভোগীদের স্বজন ও এলাকাবাসী।

বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫ মাস আগে রাশেদ খান নামে এক দালালের মাধ্যমে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে ইতালির উদ্দেশে যাত্রা করেন সম্রাট ।

সম্রাটের পরিবারের অভিযোগ, সম্রাটের পরিবারের কাছ থেকে ৭ লাখ টাকা নিয়েছে অভিযুক্ত দালাল রাশেদ খান। প্রথমে সম্রাটকে ঢাকা থেকে তাকে নেওয়া হয় লিবিয়ায়। সেখানে একটি বন্দী শিবিরে আটকে রাখা হয়। সেখানে চালানো হয় নির্যাতন। ঠিকমতো খাবারও দেওয়া হতো না।

সম্রাটের ভাই আজগর বলেন, “কতগুলো টাকা খরচ করে ভাইকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন আমার ভাই নাই। সে মারা গেছে। এখন টাকাও গেল, ভাইও গেল। আমরা এর বিচার চাই, দালালরা আমার ভাইকে মেরে ফেলছে।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদারীপুরে দালাল রাশেদ খান ও তার ভাই টুলু লোকজনকে প্রলোভন দেখিয়ে ইতালি নেওয়ার কথা বলে লিবিয়ায় নিয়ে নির্যাতন করে। তাদের বিরুদ্ধে মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, একই চক্রের মাধ্যমে জেলার আরেক উপজেলার রাজৈর থেকেও ইউরোপের উদ্দেশে রওনা দেন আরও কয়েকজন তরুণ। গত ১৪ জানুয়ারি ঢাকা ত্যাগ করা ওই দলটিতে ছিলেন মামুন শেখ ও সজল বৈরাগী। সেখান থেকে তাদেরও নেওয়া হয় লিবিয়ায়। পরিবারের সদস্যরা খবর পেয়েছেন, এক মাস পর গত বুধবার লিবিয়া থেকে তাদের নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা দেয়। ৩২ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন নৌকায় ৫২ জন অভিবাসন প্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে তিউনিসিয়ার ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন ফেটে যায়। এতে মামুন ও সজলসহ মারা যায় ১২ জন। খবর পেয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে স্থানীয় কোস্টগার্ড।

মামুন শেখের বড় ভাই সজিব শেখ ও নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনীল বৈরাগীর সঙ্গে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদকের। তাদের দাবি, মানবপাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রাঘদী ইউনিয়নের সুন্দরদী গ্রামের বাদশা কাজীর ছেলে মোশারফ কাজী প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে নেয় ১৩ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেয়। অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই করে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ইতালি পাঠানোর চেষ্টাকালে এই দুর্ঘটনা  ঘটে।

এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত দালাল মোশারফ কাজী দীর্ঘদিন ধরে লিবিয়া বসবাস করছেন। তার ছেলে যুবরাজও গ্রাম থেকে ইতালি পাঠানোর জন্য লোক সংগ্রহ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান হাওলাদার আসাদ বলেন, “এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মাদারীপুর সদর থানার ওসি এএইচএম সালাহউদ্দিন বলেন, “মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। মামলা হলে পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার করে। কিন্তু পরে আবার বাদীদের সঙ্গে আপস করে ছাড়া পেয়ে যায়।”

About

Popular Links