Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নিয়ম ভেঙে একাধিক ক্যাম্পাস চালাচ্ছে ভিকারুননিসা-মতিঝিল আইডিয়াল

ভর্তি বাণিজ্য ও অর্থ লুটপাটের কারণে শাখা ক্যাম্পাস মূল শাখার অধীনে রাখতেই প্রতিষ্ঠানগুলো নীতিমালা মানছে না বলে অভিযোগ

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২৪, ০১:২৮ পিএম

নীতিমালা প্রণয়নের এক বছরের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও মূল ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে একাধিক শাখা ক্যাম্পাস চালাচ্ছে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।

অভিযোগ উঠেছে, ভর্তি বাণিজ্য ও অর্থ লুটপাটের কারণে শাখা ক্যাম্পাস মূল শাখার অধীনে রাখতেই নীতিমালা মানছে না তারা। শাখা ক্যাম্পাসগুলোয় আলাদা গভর্নিং বডি গঠন না করে মূল ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে, মূল ক্যাম্পাসের গভর্নিং বডিকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দিতেই এটা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ ‘‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২২’’ জারি করে।

নীতিমালার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা সংক্রান্ত ১০ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তার অনুমোদিত মূল ক্যাম্পাস ছাড়া অন্য কোথাও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা খুলতে পারবে না। যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পৃথক ক্যাম্পাস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখা অনুমোদিত হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি ক্যাম্পাস/শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখাকে স্বতন্ত্র (ইআইআইএন) গ্রহণ করতে হবে; প্রতিটি ক্যাম্পাস অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখার সঙ্গে ক্যাম্পাসের স্থান উল্লেখ করতে হবে, প্রতিটি ক্যাম্পাস অথবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শাখার জন্য পৃথক জনবল কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে।

ভিকারুননিসায় ভর্তি সংক্রান্ত দুর্নীতি ও ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনা ফাঁসের পর জানা গেছে শাখা ক্যাম্পাস মূল ক্যাম্পাসের অধীনে। শাখা ক্যাম্পাসে আলাদা গভর্নিং বডি গঠন করা হয়নি।

একইভাবে নিয়োগ দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশ হলে এবং গভর্নিং বডির দাতা সদস্যের ছাত্রীর সঙ্গে প্রেম ও বিয়ের বিষয়টি সামনে এলে জানা যায়, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মূল ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে শাখা ক্যাম্পাস। আলাদা করে গভর্নিং বডি গঠন করা হয়নি।

বিদ্যালয়টি ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ও ১৯৯৫ সালে ধানমন্ডিতে প্রথম শাখা চালু হয়। পরবর্তীতে ২০০৪ সালে ম্যানেজিং কমিটি বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ও ২০০৬ সালে আজিমপুরে আরেকটি শাখা চালু করে।

মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দাদের উদ্যোগে ১৯৬৫ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। এটি ১৯৬৮ সালে একটি জুনিয়র স্কুলে পরিণত হয় ও স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে একটি পূর্ণাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ে উন্নীত হয়। শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে স্কুল কর্তৃপক্ষ প্রধান ক্যাম্পাসের পাশে ইংরেজি সংস্করণ শাখা চালু করে এবং তারপরে আরও দুটি শাখা চালু করে, বনশ্রী ও মুগদায়।

ধারণা করা হয়, দুর্নীতি অব্যাহত রাখতে রাজধানীর নামকরা এ দুটি প্রতিষ্ঠান মূল ক্যাম্পাস থেকে আলাদা করেনি শাখা ক্যাম্পাসকে। এই দুই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, , ১৩ জনের কমিটি মূল ক্যাম্পাস থেকে সব নিয়ন্ত্রণ করে। আলাদা গভর্নিং বডি হলে একেক ক্যাম্পাসে ১৩ জনের আলাদা কমিটি গঠিত হবে। অর্থাৎ ১৩ জনের আয় ভাগ হয়ে যাবে ৩৯ জনের পকেটে। সে কারণে নীতিমালা মানতে চায় না প্রতিষ্ঠানগুলো।

অভিযোগ উঠেছে, মূল্য ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের বদলি, শিক্ষকদের শাখায় শাখায় যখন তখন বদলি এবং শাখাপ্রধান নিয়োগে আর্থিক দুর্নীতি করে গভর্নিং বডি। আর সে কারণেই আলাদা গভর্নিং বডি করতে চায় না প্রতিষ্ঠানগুলো। জানা গেছে, এই দুই প্রতিষ্ঠানের বাইরে রাজধানীতে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের মূল ক্যাম্পাসের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে আলাদা অনুমোদিত শাখা ক্যাম্পাস। সেগুলোতেও আলাদা গভর্নিং বড়ি নেই।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার বলেন, “কম সময়ের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা কমিটি সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা হবে। ওই নীতিমালায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। যদি কোনো গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি তখন নতুন নীতিমালা না মানে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, বিদ্যমান শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করলে কমিটি ভেঙে দিতে পারে শিক্ষা বোর্ড। এছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই। আর সে কারণে নতুন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা নীতিমালা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক) স্থাপন, পাঠদান ও অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান নীতিমালা-২০২২ জারি করলেও এই নীতিমালা মানেনি ভিকারুননিসা ও আইডিয়াল। নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এই নীতিমালা না মানলে পাঠদান অনুমোদন, অ্যাকাডেমিক স্বীকৃতি বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী বলেন, “আমি নতুন অধ্যক্ষ। যোগদানের পর আমি এ ধরনের কোনো নির্দেশনা পাইনি। শিগগিরই একটি নীতিমালা হবে জেনেছি। ওই নীতিমালায় যে নির্দেশনা পাবো সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এমাম হোসেন বলেন, “সম্প্রতি এ বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে। সরকারি আদেশ জারি হলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবো।”

About

Popular Links