নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে বন্দি নাবিকদের এ মাসেই সুষ্ঠুভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সুষ্ঠুভাবে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া আমাদের প্রধান দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যে কাজ চলছে।”
মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “এটা কোনো ছোট ঘটনা না, অনেক বড়। দিন-তারিখ দিয়ে এর সমাধান করা সম্ভব না। সম্পূর্ণ ঘটনা আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। আশা করছি আমরা নাবিকদের সুষ্ঠুভাবে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব।”
খালিদ মাহমুদ আরও বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল, ঈদের আগে নাবিকদের যেন দেশে আনতে পারি। কিন্তু সেই টার্গেটটা পূরণ করতে পারিনি, সেটা সমস্যা হয়েছে। আশা করছি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব।”
তিনি আরও বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই জিনিসটার সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে আমাদের নৌপরিবহন অধিদপ্তর আন্তর্জাতিক এলাকায় কাজ করে, তারাও খোঁজ-খবর রাখছে। সার্বিক বিবেচনায় বলছি, পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি।”
নাবিকদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নৌপরিবহন অধিদপ্তরও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। কথাবার্তা হচ্ছে। তারা ভালো আছে। বিষয়টি অল্প কিছুদিনের মধ্যে সমাধান হবে। এখন দস্যুদের সঙ্গে আচরণটা কীভাবে হয়, এই ধরনের আলোচনা করার জন্য কিছু কিছু সংগঠন আছে, মানুষ আছে, তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা তো কখনো দস্যুদের মোকাবিলা করিনি। কাজেই আমরা বলতে পারব না, কীভাবে আলোচনা হচ্ছে। যারা দস্যুদের সঙ্গে চলাফেরা করেন, সেই মানুষদের মাধ্যমেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে।”
এর আগে ইউক্রেনের অলিভিয়া বন্দরে যখন “বাংলার সমৃদ্ধি” জাহাজ আটকে গেল, তখনও এই ধরনের কিছু সাহায্য নিয়ে সমাধান করেছিলাম। “বাংলার সমৃদ্ধি” জাহাজ ও নাবিকদের উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যথেষ্ঠ তৎপর ছিলেন। তার সহায়তায় আমরা সেটির দ্রুত সমাধান করতে পেরেছি।
আফ্রিকার দেশ মোজাম্বিক থেকে কয়লা নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাওয়ার পথে ১২ মার্চ দুপুরে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়ে বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ “এম ভি আবদুল্লাহ”। জাহাজটি চট্টগ্রামের কবির গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং লিমিটেডের মালিকানাধীন।
জিম্মিকাণ্ডের নবম দিনে এসে ২০ মার্চ জাহাজটির মালিকপক্ষের সঙ্গে প্রথমবারের মতো যোগাযোগ করে জলদস্যুরা।



জিম্মি বাংলাদেশি জাহাজের ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় নৌবাহিনী