Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সনদ বাণিজ্য: কারিগরি বোর্ড চেয়ারম্যানের স্ত্রী গ্রেপ্তার

ডিবির ভাষ্য, জাল সনদ, নম্বরপত্র তৈরি করে আসছিল একটি চক্র। এর সঙ্গে কারিগরি বোর্ডের চেয়ারম্যানের স্ত্রীর অর্থ লেনদেনের ‘প্রমাণ’ পাওয়া গেছে

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম

সনদ বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আলী আকবর খানের স্ত্রী মোছা. সেহেলা পারভীনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শনিবার (২০ এপ্রিল) রাজধানীর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সনদ বিক্রির অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

ডিবির ভাষ্য, পাঁচ বছর ধরে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের জাল সনদ, নম্বরপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্র তৈরি করে আসছিল একটি চক্র। ওই চক্রের সঙ্গে সেহেলা পারভীনের অর্থ লেনদেনের “প্রমাণ” পাওয়া গেছে।

সেহেলা পারভীন ছাড়াও একই অভিযোগে এ মাসে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গত ১ এপ্রিল মিরপুরের দক্ষিণ পীরেরবাগ ও মধ্য পীরেরবাগের বাসায় অভিযান পরিচালনা করে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কম্পিউটার সেলের সিস্টেম অ্যানালিস্ট একেএম শামসুজ্জামান ও একই প্রতিষ্ঠানের চাকরিচ্যুত ও বর্তমানে শামসুজ্জামানের ব্যক্তিগত বেতনভুক্ত সহকারী ফয়সালকে গ্রেপ্তার করে ডিবি লালবাগ বিভাগ।

তাদের দেওয়া তথ্যমতে, বিপুল পরিমাণ জাল সনদ, নম্বরপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও প্রবেশপত্রসহ এগুলো তৈরির বিশেষ কাগজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে চুরি করা কয়েক হাজার মূল সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

গ্রেপ্তার শামসুজ্জামান ও ফয়সালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৫ এপ্রিল কুষ্টিয়া সদর থানা এলাকা থেকে “গড়াই সার্ভে ইনস্টিটিউটের” পরিচালক সানজিদা আক্তার কলিকে প্রেপ্তার করা হয়। পরে তিনজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

কলির দেওয়া জবানবন্দিতে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়াম্যান আলী আকবর খানের স্ত্রীর নাম আসে। এরপর শামসুজ্জামান, ফয়সাল ও কলির ব্যবহৃত ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে গত বৃহস্পতিবার কামরাঙ্গীরচরের হিলফুল ফুযুল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মোস্তফা ওরফে মোস্তাফিজুর রহমানকে এবং শুক্রবার যাত্রাবাড়ী এলাকার ঢাকা টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের (মেডিকেল) পরিচালক মাকসুদুর রহমান ওরফে মামুন (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি বলেছে, সিস্টেম অ্যানালিস্ট একেএম শামসুজ্জামান সরকারি পাসওয়ার্ড, অথরাইজেশন ব্যবহার করে টাকার বিনিময়ে জাল সার্টিফিকেটগুলোকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করত, তাই ধরা পড়ার সম্ভবনা থাকতো না। এছাড়া তারা হোয়াটঅ্যাপের মাধ্যমে টাকা বিনিময়ের তথ্য আদান প্রদান করত।

এ চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে জানিয়ে পুলিশ বলেছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

   

About

Popular Links

x