Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ডেঙ্গুর ‘উচ্চঝুঁকিতে’ ঢাকার যেসব এলাকা

বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ০২:০২ পিএম

রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ড ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২৮ মে) রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের “মৌসুমপূর্ব এডিস সার্ভে ২০২৪” এবং “মৌসুমপরবর্তী এডিস সার্ভে ২০২৩” এর ফলাফল অবহিতকরণ সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, এ বছর মৌসুম শুরু আগেই রাজধানীতে বেড়েছে ডেঙ্গুর প্রভাব। এর মধ্যে রাজধানীর দুই সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডে ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার লার্ভার ঘনত্বের পরিমাণ নির্দিষ্ট মানদণ্ডের থেকেও বেশি।

গত ১৭ এপ্রিল থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনব্যাপী ডেঙ্গু রোগের বাহক এডিস মশার ঘনত্ব ও প্রজনন স্থান নিরীক্ষার জন্য মৌসুমপূর্ব জরিপ কাজ পরিচালনা করা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জরিপে বলা হয়েছে, জরিপকৃত তিন হাজার ১৫২টি বাড়ির মধ্যে ৪৬৩টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা ও পিউপা (কীটপতঙ্গের একটি জীবনপর্যায়) পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৪২.৩৩% বহুতল ভবনে, ২১.৬% স্বতন্ত্র বাড়িতে, ২১.৬% নির্মাণাধীন ভবনে, ১২.৭৪% সেমিপাকা বাড়িতে ও ১.৭৩% খালি জায়গায় মশার লার্ভা ও পিউপা পাওয়া গেছে।

এতে আরও বলা হয়, এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের সূচক “ব্রুটো ইনডেক্স” নামে পরিচিত। সাধারণত এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব পরিমাপের স্বীকৃত পদ্ধতি “ব্রুটো ইনডেক্স”র মানদণ্ডে লার্ভার ঘনত্ব ১০% এর বেশি হওয়া মানেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি প্রতিবছর ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মৌসুমপূর্ব, মৌসুম, মৌসুমপরবর্তী তিনটি জরিপ কাজ পরিচালনা করে থাকে।

এ বছর জরিপে দেখা গেছে, দুই সিটির ৯৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৮টিতে ব্রুটো ইনডেক্স ২০ এর বেশি। এর অর্থ হচ্ছে, এসব এলাকার ১০০টির মধ্যে ২০টির বেশি পাত্রে মশা বা লার্ভা পাওয়া গেছে। এই এলাকাগুলো ডেঙ্গুর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ঝুঁকিতে থাকা ওয়ার্ডগুলো হলো- ১২, ১৩, ২০, ৩৬, ৩১, ৩২, ১৭, ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড।

অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ডগুলো হলো- ৪, ১৩, ৫২, ৫৪, ১৬, ৩, ৫, ১৫, ১৭, ২৩ নম্বর ওয়ার্ড।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছে ১২ নম্বর ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডে এডিসের ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪৩.৩৩%। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ১৩ এবং ২০ নম্বর ওয়ার্ড, এগুলোতে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ৪০%। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩.৩৩%, ৩১ ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০%, ১৭ এবং ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৪.৪৪% ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে।

এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে ঢাকার সবচেয়ে বেশি ৭৩.৩৩%, ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৪৬.৬৭%, ৫২ ও ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৬.৬৭%, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৩৩.৩৩% ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে। এছাড়াও ৩ নম্বর, ৫ নম্বর, ১৫ নম্বর, ১৭ নম্বর এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডে ৩০% ব্রুটো ইনডেক্স পাওয়া গেছে।

সভায় জানানো হয়, উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯৯টি ওয়ার্ডে ২১টি টিমের মাধ্যমে এই জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। প্রতি ওয়ার্ড আটটি ব্লকে ভাগ করে দুটি টিম চারটি ব্লকে ১৫টি করে প্রতি ওয়ার্ডে ৩০টি বাড়িতে জরিপ পরিচালনা করে। ১০ দিনে ৯৯টি ওয়ার্ডে সর্বমোট তিন হাজার ১৫২টি বাড়িতে সার্ভে করা হয়। যেসব ওয়ার্ডে বাড়ির সংখ্যা বেশি ও এলাকা বড় সেগুলোতে তিন থেকে পাঁচটি টিমের মাধ্যমে জরিপ পরিচালনা করা হয়।

About

Popular Links