Saturday, June 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

প্রধানমন্ত্রী: সেবক হিসেবে বাবার মতো সেবা করে যাব

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা কারও কাছে ভিক্ষা করে চলতে চাই না, হাত পেতে চলতে চাই না। যতটুকু সম্ভব, তা কাজে লাগিয়ে মাথা উঁচু করে চলব’

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:৪৬ পিএম

আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে জমিসহ ঘর পাওয়া মানুষদের জীবনমান বদলে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “দেশের মানুষের সেবক হিসেবেই বাবার মতো সেবা করে যাব। দেশের মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত জীবন পাবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের মাধ্যমে মানুষের যে পরিবর্তন হয়েছে, তাতে মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।”

মঙ্গলবার (১১ জুন) “আশ্রয়ণ-২” পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশে আরও ১৮,৫৬৬ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের ঘর হস্তান্তরের আগে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সকাল ১১টায় নিজের সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা, কক্সবাজারের ঈদগাও উপজেলা এবং ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সুবিধাভোগীদের কাছে জমির মালিকানা দলিলসহ বাড়ি হস্তান্তর কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঝড়ে কোথায় ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে, আমরা খোঁজ নিয়েছি। তাদের ঘর করে দেব। আর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা দিয়ে তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আপনাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই।”

কোথাও যাতে অনাবাদি জমি না থাকে, সেজন্য দেশের মানুষের প্রতি তার অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা কারও কাছে ভিক্ষা করে চলতে চাই না, হাত পেতে চলতে চাই না। যতটুকু সম্ভব, তা কাজে লাগিয়ে মাথা উঁচু করে চলব। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা দরকার।”

এ সময় এক-এগারোর অগণতান্ত্রিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিভিন্ন ভিত্তিহীন মিথ্যা-বানোয়াট, হয়রানি ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, “২০০৭ সালের ১৬ জুলাই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের সেদিন এর প্রতিবাদ করেছিল এবং গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।”

“আশ্রয়ণ-২” প্রকল্পের পঞ্চম পর্বের দ্বিতীয় ধাপে ১৮,৫৬৬টি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারকে বাড়ি হস্তান্তরের পাশাপাশি তিনি ২৬ জেলার সব উপজেলাসহ আরও ৭০টি উপজেলাকে ভূমিহীন ও গৃহহীন মুক্ত ঘোষণা করেন।

সরকারপ্রধান লালমনিরহাটে ১,২৮২টি, কক্সবাজারে ২৬১টি এবং ভোলায় ১,২৩৪টি বাড়ি হস্তান্তর করেন। নতুন ভূমিহীন ও গৃহহীনমুক্ত জেলা ও উপজেলা নিয়ে সারাদেশে জেলার মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮টি এবং উপজেলা ৪৬৪টি।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে “আশ্রয়ণ-২” প্রকল্পের প্রথম ধাপে ৬৩,৯৯৯টি, দ্বিতীয় ধাপে ৫৩,৩৩০টি, তৃতীয় ধাপে ৫৯,১৩৩টি এবং চতুর্থ ধাপে ৩৯,৩৬৫টি বাড়ি বিতরণ করেন।

প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন ও গৃহহীন প্রতিটি পরিবারকে ২.৫% জমির মালিকানা দিয়ে একটি আধা-পাকা বাড়ি দেওয়া হচ্ছে, যা স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই হবে। প্রতিটি বাড়িতে দু’টি বেডরুম, একটি রান্নাঘর, একটি টয়লেট এবং বারান্দা রয়েছে।

প্রকল্পের বিবরণ অনুযায়ী, “আশ্রয়ণ-২” প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চম পর্যায়ের প্রথম ধাপে মোট ২ লাখ ৬৬ হাজার ১২টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালে গৃহহীনদের পুনর্বাসন কর্মসূচি চালু করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার মেয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে গৃহ ও ভূমিহীনদের ঘর ও জমির মালিকানা দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে, ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত মোট ৭ লাখ ৭১ হাজার ৩০১টি পরিবারকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। পুনর্বাসিত মানুষের সংখ্যা ৩৮ লাখ ৫৬ হাজার ৫০৫ জন (একটি পরিবারে পাঁচ জন ব্যক্তি হিসাবে)।

প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত সারা দেশে ৮ লাখ ৬৭ হাজার ৯০৪ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের প্রায় ৪৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষকে আশ্রয়ণ এবং অন্যান্য কর্মসূচির আওতায় পুনর্বাসন করা হয়েছে। শুধু আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধীনে ৫ লাখ ৮২ হাজার ৫৩ ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের ২৯ লাখ ১০ হাজার ২৬৫ জনকে পুনর্বাসন করা হয়েছে।

About

Popular Links