গাজীপুরের কাপাসিয়ায় সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশ সদস্যকে মারধর করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এম এ জলিল ও তার এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) ভোরে টোক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ জলিলকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই সঙ্গে টোক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার আরেকজন হলেন একই এলাকার ফাইজ উদ্দিন (৫৫)।
কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদ মিয়া জানান, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশকে মারধর এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের দণ্ডিত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এম এ জলিলসহ ২৩ জনের নামে মামলা করেছে পুলিশ। এই মামলায় এম এ জলিল ও তার ওই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
টোক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) লুতফুল রহমান বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
জানা গেছে, টোক ইউনিয়নের উজলী দিঘির বাজারে পশুর হাট নিয়ে দ্বন্দ্ব নিরসনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং পুলিশ কনস্টেবল লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
কাপাসিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুর রহমান জানান, বুধবার (১২ জুন) বিকেলে কাপাসিয়ার উজলী দিঘিরপাড় বাজারে ইজারা না নিয়ে গরুর হাট বসে। খবর পেয়ে ইউএনও ইজারাদারকে হাট সরিয়ে নিতে বলেন।
নির্দেশ না মানায় ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আমান উল্লাহকে দণ্ড দেন। পরে পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময় টোক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবং ওই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ জলিলসহ তার লোকজন পুলিশকে মারধর করে আসামি আমান উল্লাহকে ছিনিয়ে নেন।
ইজারাদার আমান উল্লাহ সম্পর্কে এম এ জলিলের ভাতিজা বলে জানা গেছে। তবে আমান উল্লাহ এখন পলাতক।
এ ব্যাপারে কাপাসিয়ার ইউএনও এ কে এম লুৎফর রহমান বলেন, “ইজারা না নিয়ে বাজার বসানোয় উজলী দিঘিরপাড় বাজারের ইজারাদার আমান উল্লাহকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়া হয়। পুলিশের কাছ থেকে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। ওই ঘটনায় এম এ জলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।”



