Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষণায় আলোর পথ দেখাচ্ছে আইবিএলবিএস

বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশসহ সমকালীন বিভিন্ন দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা

আপডেট : ০১ আগস্ট ২০২৪, ১১:৩১ এএম

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি রক্ষা, তার জীবন সংগ্রাম, রাজনৈতিক অবদান সম্পর্কে পাঠদান, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকট, সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা, প্রকাশনা ও প্রচার উজ্জ্বলরূপে তুলে ধরতে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ইনস্টিটিউট অব বঙ্গবন্ধু, ওয়ার অব লিবারেশন ও বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএলবিএস)।

১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপনের পরিকল্পনা হলেও তা আলোর মুখ দেখেছে ১৯৯৭ সালে একটি আইনের মাধ্যমে। ১৯৯৮ সালে এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চার একরের বেশি জায়গায় বরাদ্দ হয় প্রতিষ্ঠানটির জন্য। সেখানে এর কার্যক্রম শুরু করলেও এর মূল গবেষণা কার্যক্রম শুরু করতে সময় লেগেছে আরও অনেক বেশি। রাজনৈতিক নানা টানাপোড়নের কারণে ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত এর কার্যক্রম স্তিমিত ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলে এটি নতুন করে আলোর মুখ দেখে। ঢাকার ধানমন্ডিতে একটি অস্থায়ী কার্যালয় নিয়ে এর কার্যক্রম শুরু হয়। তবে বর্তমানে ধানমন্ডি ৮/এ তে একটি স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি গোপালগঞ্জের ক্যাম্পাসেও আবাসিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা আছে আইবিএলবিএসের।

শুরুতে বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক মুনতাসির মামুন ছিলেন ছিলেন এর পরিচালক। তবে বর্তমানে ইতিহাসবিদ ও জাতীয় বিশ্বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড মনিরুজ্জামান শাহীন এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত তিন ব্যাচে এমফিল কার্যক্রম শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে কারণে ২০০১ সালে কার্যত স্থগিত হয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য হারুনুর রশিদের আন্তরিক উদ্যোগে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষ থেকে ফের চালু হয় এমফিল লিডিং টু পিএইচডি প্রোগ্রাম। বর্তমান উপাচার্য ড. মশিউর রহমানের সহযোগিতায় তা এখন অনেকটাই পুরো উদ্যোমে চলছে বলে জানা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৭ জন, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে ১০ জন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ১৬ জন গবেষক প্রতিষ্ঠানটিতে যুক্ত হয়েছেন। যারা প্রতিনিয়ত সুনির্দিষ্ট গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ফেলোশিপ হিসেবে একটি মাসিক বৃত্তিও প্রদান করা হয় তাদের। দুই বছর মেয়াদী এমফিল প্রোগ্রাম মূলত চালু হলেও গবেষকরা প্রথম বর্ষের কাজে স্বাক্ষর রেখে পরবর্তীতে পিএইচডি প্রোগ্রামে নিজেদের স্থানান্তর করতে পারবেন। 

ইনস্টিটিউটটি বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছে গ্রন্থ, অ্যালবাম, প্রামাণ্যচিত্র, জার্নাল। এখন পর্যন্ত মোট ৬টি গবেষণা জার্নাল বের করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গ্রন্থের মধ্যে শামসুল হুদা হারুনের লেখা ‘‘দি মেকিং অব দ্য প্রাইম মিনিস্টার: এইচএস সোহরাওয়ার্দী’’, সিরাজুল ইসলামের ‘‘কুমিল্লা ডিস্ট্রিক্ট রেকর্ড: ভলিউম ১-২’’, মেসবাহ কামাল ও ঈশানী চক্রবর্তীর ‘‘নাচোলের কৃষক বিদ্রোহ, সমকালীন রাজনীতি ও ইলা মিত্র’’, মালেকা বেগমের  ‘‘একাত্তরের নারী’’  এ এসএম শামসুল আরেফিনের ‘‘মুক্তিযুদ্ধে জয়দেবপুর’’, ‘পুলিন দে'র ‘‘উদাসী হওয়ার পথে পথে’’, ড হারুন-অর-রশিদের ‘‘বঙ্গবন্ধু: সমাজ ও রাষ্ট্রভাবনা’’ উল্লেখযোগ্য। 

এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দ্বিপক্ষীয় এ গবেষণা চুক্তির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ নিয়ে গবেষণার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ২০ জন স্থায়ী শিক্ষকের পদ থাকলেও বর্তমানে সাতজন জন স্থায়ী ও বেশ কয়েকজন প্যানেল শিক্ষকের তত্বাধবানে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা হচ্ছে। শিক্ষকসহ মোট জনবল ৬৫ থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছে ১৪ জন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মনিরুজ্জামান শাহীন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, "বঙ্গবন্ধুর জীবন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে ইনস্টিটিউট অব বঙ্গবন্ধু, ওয়ার অব লিবারেশন ও বাংলাদেশ স্টাডিজ (আইবিএলবিএস) একটি প্রাতিষ্ঠানিক বা একাডেমিক পদক্ষেপ। নিজস্ব গ্রন্থাগার ও সংগ্রহশালার মাধ্যমে আপাতত কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতে এটিকে আবাসিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা আছে।"

তিনি আরও বলেন, "বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশসহ সমকালীন বিভিন্ন দেশের মুক্তিসংগ্রাম ও বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সামাজিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছি। পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত উপকরণগুলো সংগ্রহ, অনুশীলন, সংরক্ষণ, গবেষণা, প্রকাশনা ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব পালন আইবিএলবিএসের উদ্দেশ্য।"

   

About

Popular Links

x