টানা বৃষ্টির কারণে ভারতের ত্রিপুরা জেলার বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার আগরতলা বিমানবন্দরে রেকর্ড ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিমানবন্দরটি অনেকটাই উঁচুতে অবস্থিত হলেও সেখানে আংশিকভাবে পানি প্রবেশ করেছে।
এছাড়াও সিপাহিজলা, ধলাই, উত্তর ত্রিপুরা, গোমতী, দক্ষিণ ত্রিপুরা ও উনাকোটি জেলা অংশিকভাবে পানিতে তলিয়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ “কমলা সতর্কতা” জারি করেছে ভারতের আবহাওয়া দপ্তর।
আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশের ৯টি জেলার কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি ও বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। বন্যাকবলিত এসব জেলা হলো ফেনী, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, লক্ষ্মীপুর ও খাগড়াছড়ি। টানা বৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশে বন্যার পেছনে ত্রিপুরার গোমতী নদীর বাঁধ খুলে দেওয়াকে দায়ী করছেন অনেকে। যদিও ভারত ও বাংলাদেশের চলমান বন্যা পরিস্থিতির জন্য ত্রিপুরার গোমতী নদীর বাঁধ খুলে দেওয়া নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা সঠিক নয় বলে দাবি করেছে ভারতের পররাষ্ট মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানিয়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৩১ বছর পর মধ্য ত্রিপুরার ধলাই জেলার বিশাল জলাধার ডুম্বুরের (৪১ বর্গকিলোমিটার) এক দিক থেকে পানি যাওয়ার গেট বা “স্ল্যাপ গেট”-এর তিনটির মধ্যে একটি খুলে দেওয়া হয়েছে। যদিও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, নদীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাতেই এই গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা বুধবার রাতে বাংলোদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “গেট খুলে না দিলে জলাধার ফেটে পুরো অঞ্চল পানিতে তলিয়ে যেত। গেট খুলে দেওয়ার কারণে এখন নদীনালায় পানির মাত্রা বেড়ে গেছে। কী করা উচিত ছিল, তা নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে।”
এদিকে, বুধবার বিকেল পর্যন্ত ত্রিপুরার প্রধান ১০টি নদীর মধ্যে ৯টির পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে সবকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে চলে যাবে।



বাঁধের পানি ছাড়ার পর প্রথমবার মুখ খুললো ভারত