রাজধানীর মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী আলিফ হোসেন রাহাত। আরও অসংখ্য শিক্ষার্থীর মতো তিনিও অংশ নেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে। তবে গত ১৮ জুলাই আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে আহত হন এই শিক্ষার্থী। প্রায় ১৬টি ছররা গুলি লাগে তার শরীরে। সেই গুলি নিয়েই গ্রেপ্তার হন তিনি। পরে মুক্তি পেলেও প্রায় দেড় মাস ধরে ভোগ করছেন শারীরিক যন্ত্রণা। সঙ্গে রয়েছে পর্যাপ্ত চিকিৎসার অভাব। ঢাকা ট্রিবিউনকে নিজের সেই দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন আলিফ হোসেন রাহাত।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার দিন যা ঘটেছিল
অন্যদিনের মতো ১৮ জুলাই আলিফ ও তার বন্ধুরা তৃতীয় দিনের মতো অংশ নেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে। পুলিশ ও ছাত্রলীগের চোখ ফাঁকি দিতে আলাদা হয়ে বন্ধুরা জড়ো হন উত্তরা বিএনএস সেন্টারের সামনে। বেলা ১১টার দিকে শুরু হয় পুলিশের গুলি। ছররা এসে লাগে আলিফের বুক, মুখ ও চোখে।
নাম না প্রকাশের শর্তে আলিফের এক বন্ধু বলেন, “আমি তখন সেক্টর ৭ এ ছিলাম। আলিফ আমাকে ফোন করে জানায় ওর শরীরে গুলি লেগেছে।”
এরপর সেই বন্ধুটি আলিফকে নিয়ে যায় কাছের একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পরে আলিফকে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশ মেডিকেল হাসপাতালে। সেখান থেকে জানানো হয় আলিফের শরীর থেকে গুলি বের করা তাদের ওখানে সম্ভব নয়। তারা পরামর্শ দেয় আলিফকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার।
বন্ধুটি জানায়, এ পুরো সময়টি আলিফের শরীর থেকে অবিরত রক্ত ঝরছিল।
কুর্মিটোলা হাসপাতালে যাওয়ার পর তারা জানায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের কারণে এই মূহুর্তে ছররাগুলো বের করা সম্ভব না। সেখানে আরও একবার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আলিফ নিয়ে যাওয়া হয় তার বাসায়।
গ্রেপ্তার
বাড়ি ফেরার পর আলিফের শরীরে যন্ত্রণা বাড়তে থাকে। তবে পুলিশের ভয়ে হাসপাতালে যেতে দ্বিধায় পড়ে আলিফ ও তার পরিবার। তবে ধীরে ধীরে যন্ত্রণা অসহ্য হয়ে ওঠে, দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে আসতে থাকে। তার বাবা সিদ্ধান্ত নেন অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আলিফকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার।
সেই ঘটনা উল্লেখ করে আলিফের ফুফাতো বোন জেরিন বলেন, “একজন অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার আমাদের বলেছিল পুলিশ নাকি অ্যাম্বুলেন্স চেক করে না। তাই আমরা তার অ্যাম্বুলেন্সে করেই আলিফকে হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।”
২০ জুলাই সকালে আলিফকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন তার বাবা রহিজ উদ্দীন। তারা ছাড়াও অ্যাম্বুলেন্সে ছিলেন আরও দু’জন রোগী ও তাদের পরিবার।
অ্যাম্বুলেন্সটি উত্তরা পূর্ব থানার কাছাকাছি পৌঁছালে তল্লাশির জন্য সেটি থামায় পুলিশ।
আলিফের ভাষ্য, “পুলিশ তখন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে দেয়। আমার বাবাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। একজন পুলিশ অফিসার বাবাকে বলে, যখন আন্দোলনে গিয়েছিল, তখন কই ছিলি? কিছু বললি না কেন তখন?”
তল্লাশির জন্য পুলিশের সে দলে ছিল পাঁচজন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই থানা থেকে চলে আসে আরও ২০ থেকে ২৫ জন পুলিশ। এরপর আলিফ ও তার বাবাসহ অ্যাম্বুলেন্সে থাকা সবাইকে নিয়ে যাওয়া হয় উত্তরা পূর্ব থানায়।
থানায় যা ঘটেছিল
থানায় নেওয়ার পরের ঘটনা উল্লেখ করে আলিফ জানান, সেদিন একের পর এক মানুষকে ধরে আনা হচ্ছিল। এরপর বেধড়ক পেটানো হচ্ছিল তাদের।
আলিফ বলেন, “তারা আমাদের দেখিয়ে বন্দুক লোড করছিল। এমনকি একটা গুলি তখন মিসফায়ার হয়। এমন সময় একজন কনস্টেবল আমাদের উদ্দেশ করে বলে, তোদের এখানে মেরে চাপা দিয়ে দিবো, কেউ খুঁজতে আসবে না।”
রাত দশটার দিকে আলিফ ওষুধ খেতে চাইলেও তাকে তা দেওয়া হয়নি বলে জানান আলিফ।
আলিফ অভিযোগ করে বলেন, “তারা আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করার জন্য নাম্বার নিয়েছিল। কিন্তু থানা থেকে কোনো কল যায়নি।”
এদিকে, আলিফ ও তার বাবার কোনো খোঁজ না পেয়ে উৎকণ্ঠায় সময় কাটাতে থাকে পরিবারের বাকি সদস্যদের। আলিফের ফোন বন্ধ, তার বাবার ফোনে রিং বাজলেও কল ধরছিল না কেউ।
রাত ২টার দিকে আলিফের বাবা ও অ্যাম্বুলেন্সের হেলপারকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। থানা থেকে বের হয়েও বেশ কিছুক্ষণ থানার সামনে দাড়িয়ে থাকেন আলিফের বাবা। ভেতরে ছেলেকে রেখে কোথাও যেতে ইচ্ছে করছিল না তার।
বাবাকে ছেড়ে দেওয়ার পর আলিফকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় আলাদা একটি কক্ষে। আলিফের ভাষ্য, “তারা আমাকে কোনো প্রশ্ন করেনি। রুমে ঢোকামাত্রই শুরু করে বেধড়ক পেটানো। তারা কোমরে, হাতে, পায়ে ও বেল্টের নিচের অংশে বেশি মারছিলো। পেটানো শেষ হলে আবার আমাকে হাজতে ঢোকানো হয়।“
আলিফের দাবি, যাদের মুখে দাড়ি ছিল; তাদের “শিবির” আখ্যা দিয়ে বেশি পেটানো হয়।
একপযার্য়ে পুলিশ মামলা ও চালানের কাগজে আলিফের স্বাক্ষর নেয়। তারা একটা সাদা কাগজেও আলিফের স্বাক্ষর নেয়।
মামলা
আলিফকে থানা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও আইনি কাজে বাধা প্রদানের একটি মামলায় আসামি করা হয়। ঐ মামলায় আলিফের সঙ্গে আসামি করা হয় অজ্ঞাতনামা আরও প্রায় ১,৫০০ জনকে।
মামলার ১ নম্বর আসামি আলিফ আর ২ নম্বর আসামি রাশিদের বয়স সবচয়ে কম।
সিএমএম কোর্ট
ফজরের আজানের পর পুলিশ আলিফ ও অন্য আটককৃতদের জানায় তাদের কোর্টে চালান করা হবে। আলিফ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “তারা যখন হ্যান্ডকাফ পড়াচ্ছিল, তখনও আমাদের মারছিল। আমার হাতে একটা এক্সরে রিপোর্ট ছিল। একজন অফিসার আমার গালে একটা চড় দিয়ে রিপোর্টটি ছিঁড়ে ফেলে। তারপর আমাদের প্রিজন ভ্যানে ওঠানো হয়।”
আলিফ বলেন, “সেদিন ওখানে দুটো প্রিজন ভ্যান ছিল। একটা পূর্ব আর অন্যটা পশ্চিম থানার। আমাকে পশ্চিম থানার ভ্যানে ওঠানো হয়। সেখানে আমার পূর্ব পরিচিত আরও দুজন ছাত্রকে দেখি আমি। তারা জানায়, তাদেরকেও পুলিশ আমাদের মতোই সারারাত পেটায়।”
সিএমএম কোর্টে পৌছানোর পর পুলিশ আবার ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে। স্থায়ী ঠিকানা জিজ্ঞাসা করার পর আলিফ পোস্ট অফিসের নাম ভুলে যায়।
আলিফ জানান, সিএমএম কোর্টের যে কক্ষে তাদের রাখা হয় সেটার আনুমানিক ধারণক্ষমতা ৫০ জন। কিন্তু সেদিন সেখানে শতাধিক ব্যক্তিকে রাখা হয়।”
বেলা ১১টার দিকে একজন এসে একটা নীল কাগজে আলিফের স্বাক্ষর নিয়ে যায়। আলিফ যখন জানতে চায় “এটা কীসের?” ব্যক্তিটি কোনো উত্তর না দিয়েই চলে যায়।
কিছুক্ষণ পরে আরেকজন এসে আলিফকে ভাত দিয়ে যায়। এই ভাত কে দিল সেটাও আলিফকে জানানো হয়নি।
দুপুর একটার দিকে কোর্টে হাজির না করেই আটককৃতদের প্রিজন ভ্যানে করে কেরানীগঞ্জ কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
কারাগার
কেরানীগঞ্জ কারাগারে পৌঁছানোর পর আলিফ কর্তৃপক্ষকে জানায়, সে একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আর তার চোখে ও বুকে গুলি রয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ তখন আরও দুইজনের জেল হাসপাতালে পাঠায়।
হাসপাতালে আলিফ লক্ষ্য করেন, যে ব্যক্তি ব্যাথানাশক ইনজেকশন দিচ্ছে, সে একই সিরিঞ্জ সবার জন্য ব্যবহার করছে।
আলিফ বলেন, “যে ইনজেকশন দিচ্ছিল সেও একজন কয়েদি, এবং তাকে দেখে আমার অভিজ্ঞ মনে হয় নি।“
তারপর আলিফকে হাসপাতালের চার তালায় একটি বেডে পাঠানো হয়। বিছানায় শুয়ে আলিফ কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্মৃতিচারণ করে আলিফ বলেন, “আমি যখন কাঁদছিলাম, হাসপাতালের অন্য কয়েদিরা আমাকে এসে স্বান্তনা দেয়।“
আলিফ জানান, চিকিৎসক তাকে ৩ থেকে ৪ টা চোখের ড্রপ প্রেসক্রাইব করে, কিন্তু জেলের ফার্মেসিতে ছিল এর মধ্যে শুধু একটি।
নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার পরে আলিফকে পাঠানো হয় কারা কক্ষে। সেখানে একরুমে মোট পাঁচজন। তার ভাষ্য, “রুমটা পাঁচজনের জন্য অনেক ছোট। একসাথে পাঁচজনে সেখানে শুয়ে থাকা সম্ভব নয়।“
আলিফের ভাষ্যমতে, তাদের সেলের দরজা পাঁচদিন খোলা হয়নি। পাঁচদিন পর তাদের পাঁচ থেকে দশ মিনিটের জন্য সেলের সামনের বারান্দায় হাঁটতে দেওয়া হয়। পরবর্তী দিনগুলোতে তাদের দশ মিনিটের জন্য ওই তালায়ই হাঁটতে দেওয়া হত।
জেল সুপার ২৭ জুলাই দেখা করেন আলিফদের সাথে। জানতে চান, তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে কি-না। আলিফ তখন জেল সুপারকে জানায় যে সে একজন এইচএসসি পরীক্ষার্থী আর তার চোখের অবস্থার কথা।
পরদিন আলিফ ও আরেকজন বন্দিকে আবারও নেওয়া হয় জেল হাসপাতালে।
চিকিৎসক আলিফকে বলেন, “এই চিকিৎসা জেলখানায় নেই। আপাতত তোমরা সেলে ফেরত যাও। দেশের অবস্থা ভালো হলে তোমাদের বাইরের হাসপাতালে পাঠানো হবে।“
কারাগারে দিনগুলোর অভিজ্ঞতা জানিয়ে আলিফ বলেন, “জেল একটা টাকার জায়গা। এমনকি খাবার কিনতে গেলেও অন্য কয়েদিদের টাকা দিতে হয়। আমাকে আইনজীবীর কাগজে স্বাক্ষর করতেও ৫০০ টাকা দেওয়া লেগেছে। যখন আমি জেলে যাই, আমি এক কারারক্ষীকে অনুরোধ করি আমার বাবাকে জানাতে যে আমি এখানে আছি। একজন আমার বাবাকে বিষয়টা জানালে বাবা আমার জন্য কিছু টাকা পাঠায়, যার হাতে টাকা দেওয়া হয় তাকেও অতিরিক্ত কিছু টাকা দেওয়া হয় ঘুষ হিসেবে।”
হাসপাতাল
৩১ জুলাই রাতে কারা কর্তৃপক্ষ আলিফ এবং অন্য অসুস্থ বন্দিদের জানায়, তাদের জেলের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।
১ আগস্ট আলিফের হাত ও পায়ে কড়া পরানো হয় জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানোর জন্য। আলিফ বলেন, “তারা পরে আমার পায়ের কড়া খুলে দেয় যেহেতু আমি একজন ছাত্র।“
তিনি বলেন, “ডাক্তার যখন আমার অবস্থা দেখে, সাথে সাথে কর্তৃপক্ষকে জানায় যে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। আমরা তিনজন সেদিন হাসপাতালে ভর্তি হই। শ্যামলী থানা থেকে বেশ কিছু পুলিশ সদস্য আসেন, আমাদের দেখার জন্য।”
সেদিন রাত দশটার দিকে আবার আলিফের পায়ে কড়া পরিয়ে দেওয়া হয়।
জামিন
২ আগস্ট রাত ১১টার দিকে একজন এসে আলিফের পায়ের কড়া খুলে দিয়ে জানান তার জামিন হয়ে গেছে।
একজন ম্যাজিস্ট্রেট আলিফের পরিবারকে খবরটি জানান। তবে অসুস্থ থাকায় জামিন হওয়ার পরও হাসপাতালে থেকে যান আলিফ।
কারা কর্তৃপক্ষের অধীনে প্রয়োজনীয় অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতেও দেরি হতো উল্লেখ করে আলিফ বলেন, “জামিনের পর আমি নিজ খরচে সব দরকারি পরীক্ষাগুলো করি। তখনই আমার পুরোদমে চিকিৎসা শুরু হয়। কিন্তু আমার চোখের অবস্থার তেমন উন্নতি হয় না। যে ঔষধ তিন ডোজ নিলেই দৃষ্টিশক্তি উন্নত হওয়ার কথা, সেখানে আমি পাঁচ ডোজ নেওয়ার পরেও অবস্থার পরিবর্তন হয় না।”
দেখতে আসা ভিআইপিদের নিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা
আলিফের দাবি, যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি তাকে দেখতে আসত তখন তার বেড বদলে তাকে আরেকটা ভালো বেডে নিয়ে যাওয়া হত। তারা চলে যাওয়ার পর তাকে আবার সেই আগের বেডে ফেরত আনা হতো।
তিনি বলেন, “কোনো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তি আমাকে দেখতে এলে তার অনেক সঙ্গীসাথীরাও চারিদিকে ভিড় করত। আমরা যে রোগী তাদের কোনো খেয়ালই নেই এই ব্যাপারে। এমনকি কেউ কেউ এগুলো লাইভ স্ট্রিমও করত।”
এই বিরক্তিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগস্টের ১০ তারিখ হাসপাতালে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আলিফ।
হাসপাতালে ঘুরপাক
আলিফ বলেন, “ডাক্তাররা আমাকে সাতদিন পর, অর্থাৎ ১৭ তারিখে হাসপাতালে যেতে বলে। যখন আমি যাই, তারা বলে আগের ঔষধই চলবে।”
আগস্টের ১৭ তারিখ আলিফ তার পেশেন্ট ফাইল জমা দেওয়ার পরেও তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। এরপর চিকিৎসক তাকে দেখে ফের পরদিন যেতে বলেন।
পরদিনও একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয় আলিফকে। তিনি বলেন, “আমি সকাল ৯টায় ফাইল জমা দিই, কিন্তু ১২টার আগে আমার ডাক পরে না। আমি অ্যাটেন্ডেন্টকে বললে উনি বারবার আমাকে অপেক্ষা করতে বলে।”
এরপর এক আনসার সদস্য তাকে হাসপাতালের পরিচালকের কাছে নিয়ে যান। পরিচালক কাগজে স্বাক্ষর করে দিলে আলিফকে দ্রুতই চিকিৎসক দেখেন।
অবশেষে ২৪ আগস্ট আলিফের চোখে প্রথম লেজার সার্জারি সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক আলিফকে জানান, এ ধরনের রোগীদের ক্ষেত্রে ঔষধের ডোজ শেষ হওয়া পরেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসে। ডাক্তার আলিফকে বলেন আল্লাহ’র ওপর বিশ্বাস রাখতে।
বর্তমানে আলিফ সিএমএইচ এ চিকিৎসাধীন। তার বুকের ছররাগুলো ইতোমধ্যেই বের করা হয়েছে। মুখের ও চোখের নার্ভের ছররা পরবর্তী পরীক্ষার পরে বের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আলিফ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমি আগে চিন্তা করেছিলাম এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে দেশের বাইরে হলে যাব। কিন্তু এখন যে নতুন দেশ দেখছি, তাতে সিদ্ধান্ত পাল্টে ফেলেছি। যদি প্রয়োজন হয়, দেশের জন্য আবার মাঠে নামব। এই চোখ নিয়েই।”
আলিফের বাবা রহিদ উদ্দিন বলেন, “আমাদের প্রথম চিন্তা এখন আলিফের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে আনা। আপনারা আলিফের জন্য দোয়া করবেন। ও যেহেতু আমাদের একমাত্র সন্তান, আমাদের সব চিন্তা ওর ভবিষ্যত নিয়ে।”



