Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কবিরুল বাশার: অক্টোবরেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ খারাপ থাকবে

প্রস্তাবিত কেবি (কবিরুল বাশার) মডেল বাস্তবায়ন করা হলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে জানান তিনি 

আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৬:০৭ পিএম

ড. কবিরুল বাশার স্বনামধন্য কীটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক। মশা বিষয়ে জাপানের কানাজোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। মশা ও মশাবাহিত রোগ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গ্লোবাল ফান্ড, ব্র্যাক, জাতীয় ম্যালেরিয়া ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন এবং করছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু রোগের প্রাদুর্ভাব কেমন হতে পারে, কীভাবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, বিগত দিনের অভিজ্ঞতা থেকে সতর্কতা ও আগাম প্রস্তুতি বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

ঢাকা ট্রিবিউন:  এবছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মতামত জানতে চাই...

কবিরুল বাশার: জুলাই মাসে আমাদের গবেষণা থেকে বলেছিলাম এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে। মশা প্রজননের জন্য উপযুক্ত তাপমাত্রা হচ্ছে ২০-৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা যদি ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে হয়, তখন যেকোনো মশার প্রজনন কমে যায়। তাপপ্রবাহে মশার প্রজনন কমলেও বৃষ্টিপাত হলেই মশার প্রজনন বাড়তে শুরু করে।

আমরা মাঠ পর্যায়ে এডিস মশা নিয়ে যে গবেষণা করি তাতে মশার ঘনত্ব, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত এই কয়েকটি প্যারামিটার নিয়ে ফোরকাস্টিং মডেল তৈরি করি। বর্তমানেও আমরা যে গবেষণা করছি তা থেকে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যেটি দেখছি সেটি হলো অক্টোবর মাসেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ খারাপ থাকবে। এবার বছরজুড়েই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নাজুক থাকবে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।

ঢাকা ট্রিবিউন: ডেঙ্গুর কারণ যে এডিস মশা, তার নাম এডিস ইজিপ্টা। এই মশা সম্পর্কে জানতে চাই। পুরো দেশেই কী এক ধরনের মশা ডেঙ্গুর কারণ?

কবিরুল বাশার: ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস ইজিপ্টা মশা। ধারণা করা হয়, ৯৫ শতাংশ ডেঙ্গুর কারণ এ মশা। এটিকে নগরের মশা বা গৃহপালিত মশাও বলা হয়। ডেঙ্গুর আরেকটি বাহক মশা আছে যা ৫ ভাগ ডেঙ্গুর জন্য দায়ী। যেটি এডিস অ্যালবোপিকটাস বা এশিয়ান টাইগার মশা নামেও পরিচিত। এই মশা গ্রামাঞ্চলে যেখানে গাছগাছালি বা ঝোপঝাড় বেশি, সেখানে হয়। এটিকে বলা হয় গ্রামের মশা। দুটি মশারই গায়ে এবং পায়ে সাদা-কালো ডোরাকাটা দাগ থাকে। এ মশা ২টি মাঝারি আকৃতির মশা। কেউ কেউ ডেঙ্গুর বাহক হিসেবে আরেকটি মশার কথা বলে ভুল করে বলেন, সেটি হলো আর্বিজেরিস। আর্বিজেরিসের পেটে ডোরা কাটা থাকে কিন্ত পায়ে থাকে না।  অন্যদিকে এডিস মশার গায়ে এবং পায়ে উভয় জায়গায়ই ডোরাকাটা দাগ থাকে।

ঢাকা ট্রিবিউন: দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর ধরন পাল্টেছে। এডিস মশার চরিত্রও পরিবর্তন হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কী বলবেন?

কবিরুল বাশার: এডিস ইজিপ্টা মশা ডেঙ্গুর প্রধান বাহক। এটিকে শহর-নগরে বেশি দেখা যায়। আবার এডিস অ্যালবোপিকটাস মশা গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়। এ ২ ধরনের মশাই মূলত ডেঙ্গুর জন্য দায়ী। তাই যেখানেই অপরিকল্পিত নগরায়ন হয়েছে সেখানেই ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটেছে।

এডিস মশার আচরণ বা চরিত্রে পরিবর্তন হয়েছে। এটি একটি সুচতুর মশা। যেকোনো পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। একটা সময়ে আমরা জানতাম যে এডিস মশা শুধু পরিষ্কার পানিতে হয়। কিন্ত দীর্ঘ ৫ বছরের গবেষণায় আমরা দেখেছি শুধুমাত্র পরিষ্কার পানিতেই নয়, নোংরা পানিতেও এডিস মশা জন্মায়। অন্যদিকে আমরা এটিও জানতাম যে, এডিশ মশা শুধুমাত্র সকালে এবং বিকেলে কামড়ায়। এই ব্যাপারটিও আমরা ভুল প্রমাণ করেছি। ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চলে গবেষণা করে আমরা দেখেছি যে রাতের বেলাও ডেঙ্গু মশা কামড়ায়। আমাদের এই গবেষণার ফলাফলটি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে প্রকাশিত হয়।

ঢাকা ট্রিবিউন: একসময় ডেঙ্গু শুধু ঢাকা শহরেই সীমাবদ্ধ ছিল। এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী?

কবিরুল বাশার: ডেঙ্গু এক নগর থেকে আরেক নগরে বিস্তৃত হয়। কোনো একটি নগর যখন ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয় তখন সেই নগর থেকে অন্য নগরে যোগাযোগব্যবস্থা ভালো থাকলে অনেক মানুষ যাতায়াত করে। তখন সেই নগরেও কিন্ত ডেঙ্গু সম্প্রসারিত হয়। বাস, লঞ্চ এমনকি উড়োজাহাজে করেও ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশা অন্যত্র চলে যেতে পারে। বাংলাদেশের প্রতিটি নগরেই এখন এডিস মশা আছে এবং সেখানে যদি আবার ডেঙ্গুর রোগী যায় তখন ট্রান্সমিশন শুরু হয়। তাই ডেঙ্গু যেখানে শুরু হয় সেখানেই যদি সেটাকে সীমাবদ্ধ রেখে ম্যানেজমেন্ট করা যায় তাহলে তা পার্শ্ববর্তী শহরে ছড়িয়ে পড়বে না।

ঢাকা ট্রিবিউন: ঢাকায় ডেঙ্গু মোকাবিলা করা যায়নি বলে কি এটি এখন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে?

কবিরুল বাশার: ডেঙ্গু একসময় শহর বা নগরের রোগ ছিল। কিন্ত এখন এটি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে তার কারণ হলো সারাদেশেই অপরিকল্পিত নগরায়নের ছোঁয়া। এখন গ্রামেও একজন মানুষ বিল্ডিংয়ে থাকতে চায়, কিন্তু বিল্ডিং করার সময় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিকমতো নিশ্চিত না করার কারণে অনেক সময় পানি জমে থাকে এবং এই জমা পানিতে এডিস মশা জন্মায়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের ক্যান ফুড ও প্যাকেটজাত খাবারের ব্যবহার গ্রামে বেড়ে যাওয়ায় গ্রামেও এখন এসব প্যাকেট বিভিন্ন জায়গায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে এসব জায়গায় আমরা এডিস মশার প্রজনন হতে দেখি। এছাড়া গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যবধান কমে যাওয়া এবং গ্রামেও বিভিন্ন ধরনের পাত্র যেখানে সেখানে পড়ে থাকায় এখন এডিস মশার প্রজনন বেড়ে যাচ্ছে এবং ডেঙ্গু দেখা দিচ্ছে।

ঢাকা ট্রিবিউন: আগে বর্ষার সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি ছিল। এখন প্রায় সারাবছরই  ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে, এ বিষয়ে যদি কিছু বলতেন?

কবিরুল বাশার: ডেঙ্গু একটা সময় মৌসুমি রোগ ছিল। শুধুমাত্র বর্ষাকালেই ডেঙ্গু হতো কারণ বর্ষাকালে বিভিন্ন পাত্রে বৃষ্টির পানি জমা হয়ে সেখানে এডিস মশা জন্ম নিতো। কিন্ত অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং পানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন না থাকায় আবার শীতকালে নির্মাণ কাজ বেড়ে যাওয়ায় মানুষ বিভিন্ন পাত্রে পানি জমিয়ে রাখছে। যেমন রান্নাঘরে কাজের জন্য পানি জমিয়ে রাখছে, নির্মাণাধীন ভবনে ড্রাম-বালতিতে পানি জমিয়ে রাখছে। ফলে সেখানে এডিস মশা পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন কাজে পানি ব্যবহৃত হয়ে থাকে শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষাসহ বছরের যেকোনো সময়। বাংলাদেশের তাপমাত্রা সারাবছরই এডিস মশার প্রজননের জন্য উপযোগি। যদি শীতকালে কোথাও পানি জমা থাকে তাহলে সেসময়ও আমরা মাঠ পর্যায়ে ডেঙ্গু দেখতে পাই। তাই ডেঙ্গুর প্রজনন রোধে পানি জমে থাকা বন্ধ করতে হবে। পানি জমে থাকলে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা যেকোনো সময়ই ডেঙ্গু হবে। এবছর শীত মৌসুম ডিসেম্বরেও ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকবে বলে মনে করি।

ঢাকা ট্রিবিউন: চলতি মাসে মশক পরিস্থিতি কী হতে পারে?

কবিরুল বাশার: যে ধারায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ চলছে সে ধারায় চলতে থাকলে পরিস্থিতি উন্নতির কোনো সম্ভাবনা নেই।  চলতি মাস অক্টোবর জুড়েই ডেঙ্গুর প্রকোপ সেপ্টেম্বরের চেয়ে বেশি হবে।

ঢাকা ট্রিবিউন: টেকসই সমাধান কী হতে পারে?

কবিরুল বাশার: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে টেকসই সমাধান হিসেবে আমি একটি মডেল প্রস্তাব করেছি। মডেলটির নাম কেবি (কবিরুল বাশার) মডেল। আমি দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি আমার প্রস্তাবিত মডেলটি বাস্তবায়ন করা হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব। এছাড়া অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। যারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন বা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক আছেন তারা নিশ্চয়ই আমার মডেলটি পড়বেন এবং বিবেচনা করে দেখবেন।

ঢাকা ট্রিবিউন: কেবি মডেল সম্পর্কে একটু সংক্ষেপে বলবেন?

কবিরুল বাশার: কেবি মডেলে প্রতিটি এলাকাকে কয়েকটি ব্লকে ভাগ করতে হবে, প্রতি ব্লকে থাকবে ৫০০/১০০০ বাড়ি, যা একজন স্বাস্থকর্মী দিয়ে ১৫ দিন পর পর পর্যবেক্ষণ করানো হবে এবং ওই স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ির মালিকদের অবগত করবেন যে বাড়ির কোথাও এডিস মশার আশ্রয়স্থল আছে কিনা এবং তাদেরকে দিয়ে বাড়ির পরিবেশ ঠিক রাখবেন। পর্যবেক্ষণের পরে যে বাড়িতে কোনো এডিস মশা বা মশার আশ্রয়স্থল পাওয়া যাবে না সেই বাড়িতে ওই স্বাস্থ্যকর্মী সবুজ স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে আসবেন, আর কোনো বাড়িতে এডিস মশা বা মশার আশ্রয়স্থল পাওয়া গেলে সেই বাড়িতে হলুদ স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে আসবেন এবং বার বার বুঝানোর পরে বা পর্যবেক্ষণের পরে যদি কোনো বাড়িতে ৩ বার এডিস মশা বা মশার আশ্রয়স্থল পাওয়া যায় তাহলে স্বাস্থ্যকর্মী ওই বাড়িতে লাল স্টিকার লাগিয়ে দিয়ে আসবেন। এরপর সরকার ওই বাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবে। এভাবে টানা এক বছর এই মডেল অনুসরণ করে সব বাড়িগুলোকে পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখলে আমাদের দেশে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। আর এই মডেল বাস্তবায়ন করতে অনেক বেশি টাকাও খরচ করতে হবে না।

ঢাকা ট্রিবিউন: ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে আপনি কী বলবেন?

কবিরুল বাশার: এডিস মশা এবং ডেঙ্গু আমাদের দীর্ঘ সময়ের একটি পরিচিত শত্রু। ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গু শুরু হয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আমরা এর উন্নতি খুব বেশি দেখিনি। যারা এটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন তারা বলছেন তারা কাজ করছেন, কিন্তু নগরবাসী এর ফলাফল পাচ্ছে না।

ঢাকা ট্রিবিউন: ডেঙ্গু মোকাবিলায় বেসরকারি উদ্যোগ কী কম?

কবিরুল বাশার: ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি উদ্যোগও প্রয়োজন। প্রত্যেক নাগরিকের উচিত তার নিজ নিজ বাড়ির আঙ্গিনা প্রতি সপ্তাহে একবার হলেও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যে কোথাও কোনো পানি জমা আছে কিনা। যদি পাত্রে পানি জমে থাকে তাহলে সেটা ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে আবার ব্যবহার করতে হবে। যদি কোনো পাত্র না ধোয়া যায় তবে সেখানে সিটি কর্পোরশনের সহযোগিতায় কীটনাশক প্রয়োগ করতে হবে। নগরবাসী এবং সরকার একসঙ্গে কাজ করলে তবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

ঢাকা ট্রিবিউন: মশা দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে, এটি কি বাস্তবায়ন সম্ভব? এ ব্যবস্থা আমাদের জন্য কী নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে?

কবিরুল বাশার: মশা দিয়ে মশা নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়াটি পৃথিবীর অনেক দেশে বিজ্ঞাপন আকারে প্রচারিত হচ্ছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়াটি ঢাকার মতো মেগাসিটিতে খুব বেশি সফল হবে না। যেসব দেশে এই প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে, সেগুলো দ্বীপ দেশ। ছোট বড় দ্বীপে এই প্রক্রিয়াটি সফল হবে। ঢাকার মতো একটা মেগাসিটি, যেখানকার তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বৃষ্টিপাত এবং পরিবেশ দূষণ অন্যান্য শহরের মতো নয়। তাই এ প্রক্রিয়াটি এখানে খুব বেশি কাজে আসবে না। তবে পরীক্ষামূলকভাবে ছোট এলাকায় এটি প্রয়োগ করে দেখা যেতে পারে।

ঢাকা ট্রিবিউন: ডেঙ্গুগুতে মৃত্যুহার কিভাবে কমানো যেতে পারে?

কবিরুল বাশার: অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর মূল কারণ হচ্ছে নাগরিকদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা নেওয়া নিয়ে অবহেলা। ডেঙ্গু ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করলে মৃত্যু ঝুঁকি থাকে না। অন্যদিকে সময়ক্ষেপণ করা হলে মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ে। আমাদের টারশিয়ারি লেভেলের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা এবং জেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এমন প্রতিটি কমপ্লেক্স ডেঙ্গু চিকিৎসায় উপযোগী। সেখান থেকে রোগী ট্রান্সফার করে সময়ক্ষেপণ করে রোগীর পরস্থিতি জটিল করা উচিত নয় বলে আমি মনে করি। তবে শিশু এবং সন্তানসম্ভবা মায়ের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।

ঢাকা ট্রিবিউন: সাধারণ জনগণের করণীয় কী?

কবিরুল বাশার: সাধারণ জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। জনগণকে কিভাবে সম্পৃক্ত করা যায় সে প্রক্রিয়াটি রাষ্ট্রকে নিতে হবে। জনগণ নিজ নিজ অবস্থান থেকে নিশ্চিত করবে যেন তার বাসাবাড়ির আঙ্গিনায় ডেঙ্গু প্রজনন বিস্তার করতে না পারে। অন্যদিকে রাষ্ট্রব্যবস্থা রাস্তা-ঘাট, উন্মুক্ত স্থান এবং সরকারি বেসরকারি স্থাপনায় নিশ্চিত করবে যেন সেখানে এডিস মশার প্রজনন না হয়। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দরকার যুগপৎ পদক্ষেপ। জনগণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান যুগপৎভাবে কাজ করতে পারে তবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

 

   

About

Popular Links

x