Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভালো নেই সাজেকের পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা

১৯ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে সাজেকে পর্যটক ভ্রমণ

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০২৪, ১২:৪৪ পিএম

মেঘের বাড়ি হিসেবে খ্যাত সাজেকের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত মানুষগুলো ভালো নেই। নিদারুণ কষ্টে জীবনযাপন করছেন তারা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে সংঘর্ষের পর ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে সাজেকের রিসোর্টগুলোতে বন্ধ হয়ে রয়েছে পর্যটকদের ভ্রমণ। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে তারো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। পাহাড়ের স্থানীয় অনেক পরিবারের জীবন-জীবিকা চলে পর্যটকদের নানা সেবার মাধ্যমে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারাও ভালো নেই।

বন্ধ রয়েছে সাজেকের কটেজ-রিসোর্ট ও হোটেল রেষ্টুরেন্ট থেকে শুরু করে সকল ধরনের ব্যবসা-বাণিজ্য। এতে করে কোটি টাকার লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। অন্যদিকে ব্যবসার সঙ্গে শ্রমিক-কর্মচারীদেরও দিন কাটছে নিদারুণ কষ্টে। এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ ব্যবসায়ীরা চিন্তায় পড়েছেন কিভাবে তারা ব্যবসার ক্ষতি পুষিয়ে নিবেন।

খাগড়াছড়ির সাজেক সড়কের মাহিন্দ্র গাড়ী চালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “সাজেকে নিয়মিত প্রায় দুই’শ গাড়ি পর্যটক নিয়ে যাতায়াত করে। পর্যটন বন্ধ থাকায় আমরা পরিবার নিয়ে খুবই কষ্টে আছি। সাজেকের পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেওয়া হলে আমাদের অর্থনীতি আবারো চাঙ্গা হবে।”

সাজেকের পেদা টিং টিং রেষ্টুরেন্টের মালিক মো. রিয়াদ বলেন, “সাজেকে পর্যটক আসা বন্ধ থাকায় অনেক টাকা লোকসান হচ্ছে। দৈনিক আমাদের দোকানে ৩০-৪০ হাজার টাকা ব্যবসা হতো। এখন এখানকার প্রায় ১৮ টি রেস্টুরেন্ট আছে সবগুলোই বন্ধ। দেড়মাস ধরে বন্ধ থাকায় আমরা আর্থিকভাবে খুবই ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছি।”

সাজেক কটেজ ও রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, “সাজেকে ১১৬ টি রিসোর্ট ,১৪ টি রেষ্টুরেন্ট,১০০ টির মতো ছোট বড় বিভিন্ন দোকান রয়েছে। সাজেকে এই সময়ে কটেজগুলোতে পর্যটকে  পরিপূর্ণ থাকে। বর্তমানে সাজেকে পর্যটন ব্যবসার সাথে জড়িত প্রত্যেকটা মানুষ খুবই কষ্টে আছে।”
তিনি বলেন, “প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সাজেকের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেয়া হোক। একই সঙ্গে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার আমাদের আর্থিক সহযোগিতা করুক।”
 
সাজেক রিসোর্ট ও কটেজ মালিক সমিতির সভাপতি সূপর্ণ দেব বর্মণ বলেন, “৩১ অক্টোবরের পর যদি সাজেক পর্যটন খুলে দেয়া না হয়, এমনিতে বর্তমানে  সবার মাথায় হাত  জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে। আমরা প্রশাসনকে অনুরোধ করবো যেন অচিরেই সাজেক পর্যটন কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়।”

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খাঁন বলেন, “৩১ অক্টোবর পর্যন্ত রাঙামাটি জেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। এটা যেন আর দীর্ঘতর না হয় জেলা প্রশাসন থেকে যে পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমি সেভাবে পদক্ষেপ গ্রহন করছি। আমরা চাই কারো জীবন-জীবিকা যেন স্থবির না হয়ে পড়ে। সবার যেন অর্থনৈতিক স্বচ্চলতা থাকে। কেউ যেনে কষ্টে না পড়েন।”

গত ১৯ সেপ্টেম্বর ভোরে খাগড়াছড়ি জেলার পানখাইয়া পাড়ায় মোটরসাইকেল চোর সন্দেহে মো. মামুন (৩০) নামে এক যুবককে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর প্রতিবাদে ১৯ সেপ্টেম্বর জেলার দিঘীনালা উপজেলার লারমা স্কোয়ার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে বাঙালি ও পাহাড়িদের মধ্যে সংঘর্ষের রূপ নেয়। ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হন।

এর উত্তাপ পরদিন রাঙামাটি শহরেও ছড়িয়ে পড়ে। ২০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে জেলা শহরে শত শত পাহাড়ি জনতা মিছিল বের করে। সেই মিছিল থেকে বনরূপা এলাকার দোকানপাট ও স্থাপনায় ভাঙচুর করা হয়। পরে দুপুরে পাহাড়ি-বাঙালিদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৪৪ ধারা জারি করা জেলা প্রশাসন। 

   

About

Popular Links

x