খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুকৃবি) ৩য় উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান।
নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান যোগদানের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সকল শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সমবেদনা এবং আহতদের আরোগ্য কামনা করেন।
অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান ১৯৬৭ সালে ২১ জুলাই খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ক্রিসেন্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ১৯৮৩ সালে এসএসসি এবং সরকারি বিএল কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বিভাগে। সেখান থেকে ১৯৮৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে অনার্স এবং ১৯৯১ সালে প্রথম শ্রেণিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৭ সালে তিনি জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও থেকে পোস্ট গ্রাজুয়েট রিসার্চ সম্পন্ন করেন এবং একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০০০ সালে এমএসসি ডিগ্রি ও ২০০৩ সালে পিএইচডি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি জাপানের ইউনিভার্সিটি অব টোকিও থেকে ২০০৮ সালে পোস্ট ডক্টরেল সম্পন্ন করেন।
ড. মো. নাজমুল আহসান ১৯৯২ সালে ডিএফআইডিতে (যুক্তরাজ্য) বায়োলজিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালের ২১ জুন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন টেকনোলজি ডিসিপ্লিনে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৮ সালের ১ এপ্রিল তিনি সহকারী অধ্যাপক, ২০০০ সালের ২৪ জুলাই সহযোগী অধ্যাপক এবং ২০০৬ সালের ৩০ জানুয়ারি অধ্যাপক পদে পদন্নতি পান। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতা পাশাপাশি তিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিল ও বোর্ড অব অ্যাডভান্স স্টাডিজের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও ডিন, ডিসিপ্লিন কমিটির প্রধান, গবেষণা সেলের পরিচালক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজের সদস্য, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সেমিনার আয়োজক কমিটি, বিশেষজ্ঞ সদস্য ছাড়াও বিভিন্ন একাডেমিক কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আন্তর্জাতিক ইনডেক্স জার্নালসহ দেশী-বিদেশী স্বীকৃত জার্নালে তার শতাধিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
শিক্ষা ও গবেষণায় অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল আহসান উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস, সমন্বিত কৃষি, জলবায়ু, সুন্দরবন উপকূলীয় জীবন-জীবিকা, সম্পদ ব্যাবস্থাপনা,টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বহুসংখ্যক প্রতিষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ, পরামর্শক,কৌশল নির্ধারক হিসেবে কাজ করেছেন, পেয়েছেন সাফল্যের স্বীকৃতি।



