সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষার্থী ও শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুরিশ। এর আগে ৬৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। খুবি রেজিস্ট্রার ড. এস এম মাহবুবুর রহমান বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।
মামলায় রাজীব পরিবহনের চালক, হেলপার, ম্যানেজারসহ নয়জনকে ও অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ চালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে চালককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন - রাজীব পরিবহনের বাসের চালক আপন, কাউন্টার ম্যানেজার ইমরান হোসেন ও হেলপার মো. আল আমীন। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সোনাডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
সোনাডাঙা থানার এস আই আব্দুল হাই বলেন, “গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।”
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “খুবির রেজিস্ট্রার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নাম থাকা নয়জনের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মামলায় অজ্ঞাত আরও ৫০-৬০ জন অভিযুক্ত রয়েছে। তাদের শনাক্তে তদন্ত করা হবে।”
তিনি বলেন, “রাজীব পরিবহনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্র খুলনায় আসছিলেন। তাকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে না নামিয়ে টার্মিনালে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়—এমন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা তাকে ছাড়িয়ে নিতে টার্মিনালে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষার্থীরা টার্মিনাল মোড় অবরোধ করে রাখেন। রাত পৌনে নয়টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে ক্যাম্পাসে ফিরে যান। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. মুহিবুল্লাহ মুহিব বলেন, “গোপালগঞ্জ থেকে রাজীব পরিবহনের একটি বাসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী খুলনায় আসছিলেন। ভাড়া নিয়ে আসন না দেওয়া নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে ওই শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করেন বাস শ্রমিকেরা। বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সোনাডাঙ্গায় অবস্থিত বাস টার্মিনালে গিয়ে বাস শ্রমিকদের মারধরের কারণ জিজ্ঞাসা করেন। এ সময় পরিবহন শ্রমিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকায় যান। এক পর্যায়ে তারা শ্রমিকদের ধাওয়া দেন। দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় পুরো এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে।”
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক নাজমুস সাদাত বলেন, “শ্রমিকদের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের দিকে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।”
উল্লেখ, বুধবার বিকেলে গোপালগঞ্জ থেকে রাজিব পরিবহনের বাসে আসার সময় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ভাড়া ও আসন নিয়ে বচসা হয়। এরপর তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে না নামিয়ে সোনাডাঙ্গা নিয়ে মারধর করা হয়। এই সংবাদ শুনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা বাস টার্মিনালে ছুটে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালান বাস শ্রমিকরা। এ সময় বাস শ্রমিক ও খুবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া হয়। এতে খুবির ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হন। এ সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি বাস ও কাউন্টার ভাঙচুর হয়।



খুবি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রমিকদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, সড়ক অবরোধ