জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন শুধু ১৯ তারিখের হামলা-সংঘর্ষে নিহত হন ১৪৮ জন যার সংখ্যা প্রাথমিক প্রতিবেদনে প্রকাশিত তালিকার চেয়ে ৩ গুণ বেশি। এদের মাঝে ৪০ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে।
সম্প্রতি বাংলা একাডেমির “ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্ট” ও “টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট” কর্তৃক প্রকাশিত “ব্লাডশেড ইন বাংলাদেশ” শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য ওঠে আসে।
নিহতদের মধ্যে ৪২ জন শিক্ষার্থী এবং ৯৯ জন কর্মজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষ রয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নিহতদের মাঝে ঢাকায় ১২৪ জন, নরসিংদীতে ৭ জন, নারায়ণগঞ্জে ৭ জন, রংপুরে ৪ জন, মাদারীপুরে ২ জন এবং ময়মনসিংহ, বগুড়া, সিলেট ও সাভারে একজন করে নিহত হন।
এছাড়াও “দ্যা জুলাই রেভোলুশন: এভিডেন্স অফ অ্যাট্রোসিটিজ” শিরোনামে প্রতিবেদনের প্রকাশ অনুষ্ঠানে দুটি স্বল্পদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্রও মুক্তি পায়। এতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত পুলিশি অত্যাচারের ভিডিও প্রমাণগুলো একত্রিত করে কী ঘটেছিল তা পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। একটি তথ্যচিত্রে দেখা যায়, যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ বিপুল সংখ্যক তরুণ আন্দোলনকারীদের ঠান্ডা মাথায় হত্যা করছে। অন্যটিতে মোহাম্মাদ হৃদয় নামে এক তরুণকে ৫ আগস্ট গাজীপুরে পুলিশ ধরে এনে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে হত্যা করে।
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জুলাইয়ে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে বলেন, “যখনই অত্যাচারে মৃত্যুর দৃশ্য দেখি মনে হয় বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে আমাদের বেঁচে থাকার অধিকার নাই। আমাদের প্রসিকিউশন টিম তদন্ত টিম কাজ করছে, আমি কথা দিচ্ছি এটার সুবিচার নিশ্চিত করবই। এ সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব জুলাই অভ্যুত্থানে সুবিচার নিশ্চিত করা। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার চেয়ে আমাদের বিচার যে ভিন্ন সেটা নিশ্চিত করতে হবে। আপনাদের মতো আমাদের তাড়না থাকে। কালকেই যদি বিচার হয় খুশি হতাম। কিন্তু আমাদের তো প্রসেস মেইনটেইন করতে হবে। আমাদের এত অকাট্য প্রমাণ এত সাক্ষী আছে, ডিউ প্রসেস মেইনটেইন করে বিচার করতে পারব।”
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “তারা যে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন করেছে, তাদের শনাক্ত করার পাশাপাশি এটা বের করা জরুরি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এমন নিষ্ঠুর হয়ে উঠল? কেন রাষ্ট্র এ পর্যায়ে গিয়েছিল, কার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছিল? এগুলো নিয়েও আমরা কাজ করছি। এভাবে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা সর্বত্র হয়েছে, একই মাত্রায় একই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীকে হত্যার গায়েবি নির্দেশ কোথা থেকে এসেছে সেটা যদি বের করা যায় তাহলে বোঝা যাবে সুপিরিয়র কমান্ড কতটুকু সম্পৃক্ত হয়েছিল।”
ইন্টারন্যাশনাল ট্রুথ অ্যান্ড জাস্টিস প্রজেক্টের নির্বাহী পরিচালক ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী ইয়াসমিন সুকা বলেন, “এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, পুলিশের দ্বারা বেআইনি ও লক্ষ্যবস্তু শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছিল, যা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আদালতে প্রমাণিত হলে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের সমান। শেখ হাসিনা নিশ্চয়ই জানতেন কী ঘটছে এবং তা থামানোর জন্য কিছুই করেননি।”
বিক্ষোভের ৫ মাস পরেও নিহত ও আহতদের একটি সম্পূর্ণ তালিকা তৈরি করতে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।
তিনি বলেন, “জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনসহ যারা এতে কাজ করছে তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার আমি প্রশংসা করি, তবে তাদের যোগ্যতা সম্পর্কে আমার প্রশ্ন রয়েছে।”



