Tuesday, July 21, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যৌথ বাহিনীর হেফাজতে যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ

পুলিশ জানিয়েছে তৌহিদুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:২৬ পিএম

কুমিল্লায় গভীর রাতে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক এক যুবদল নেতার মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অমানবিক নির্যাতনের ফলে মো. তৌহিদুল ইসলাম (৪০) নামের ওই যুবদল নেতা মারা গেছেন।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২ টায় অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তৌহিদুল ইসলাম কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক ছিলেন এবং তিনি ইটাল্লা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরে একটি শিপিং এজেন্টে চাকরি করতেন। গত রবিবার তার বাবা মোখলেছুর রহমানের মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেছিলেন। শুক্রবার তার বাবার কুলখানি হওয়ার কথা ছিল। তৌহিদুলের মা প্রায় ২০ বছর আগে মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী ও চার কন্যাসন্তানের জনক।

কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ সাইফুল মালিক বলেন, “শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয় তৌহিদুল ইসলামকে নিয়ে যেতে। পুলিশ তাকে হস্তান্তর করার সময় তিনি অচেতন অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে তাকে কেন আটক করা হয়েছিল বা কীভাবে তার মৃত্যু ঘটেছে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।”

তৌহিদুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অভিযোগ নেই, এমন তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। তবে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তৌহিদুল ইসলামের ভাই সাদেকুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তারা বাবার কুলখানির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে আসেন। তাদের সঙ্গে পুলিশের পোশাক পরা কাউকে দেখা যায়নি, তবে সাদা পোশাকে পাঁচজন যুবক ছিলেন। তারা তৌহিদুলকে আটক করে, এরপর সবার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ঘরে তল্লাশি করেন, কিন্তু কিছু পাননি। তৌহিদুলকে আটকের কারণ জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো উত্তর দেননি এবং তাকে গাড়িতে করে নিয়ে যান।

সকালে আবারও সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাড়িতে এসে ব্যাপক তল্লাশি করেন উল্লেখ করে সাদেকুর রহমান বলেন, “তখনো কিছু পাননি। সকালেও তৌহিদুল তাদের গাড়িতে ছিলেন। কিন্তু তাকে গাড়ি থেকে নামানো হয়নি। দূর থেকে তাকে নিস্তেজ মনে হচ্ছিল।”

তৌহিদুল ইসলামের স্ত্রী ইয়াসমিন নাহার বলেন, “আমার চারটি মেয়ে এখনও ছোট। আমি জানি না, কীভাবে তাদের নিয়ে বাঁচব। আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। তাকে কেন নির্যাতন করে হত্যা করা হলো?  আমি পুরো ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং বিচার চাই।”

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদলের সদস্যসচিব ফরিদ উদ্দিন বলেন, “তৌহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কখনো কোনো অভিযোগ ছিল না। তিনি যুবদলের দায়িত্ব পালন করছিলেন। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ইলেকট্রিক শক দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন মানুষের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত চাই।”

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, “শুক্রবার দুপুরের দিকে পুলিশ তৌহিদুল ইসলামকে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দেখা যায়, তাকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।”

   

About

Popular Links

x