কুড়িগ্রামের রাজীবপুর-চিলমারী নৌপথে ব্রহ্মপুত্র নদে ১০ দিনের ব্যবধানে আবারও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গুলি ছুড়তে ছুড়তে নৌকায় থাকা যাত্রী ও গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাত দল। ঘটনাস্থল থেকে ২০০–৩০০ মিটার দূরেই ছিলেন নৌ পুলিশের কয়েকজন সদস্য।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চিলমারী উপজেলার কড়াইবরিশাল খেয়াঘাটের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি কড়াইবরিশাল এলাকায় যাত্রীবাহী নৌকায় এবং গত ২১ ডিসেম্বর চিলমারীর অষ্টমীরচর ইউনিয়নের দুইশ বিঘার চরের কাছে ব্রহ্মপুত্র নদে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
চিলমারী বন্দর রমনা নৌঘাট কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রবিবার দুপুরে দুটি নৌকা চিলমারী ইউনিয়নের কড়াইবরিশাল খেয়াঘাটের পশ্চিম-দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে এক দল ডাকাত ট্রলার নিয়ে তাদের গতিরোধ করে। এরপর তারা ডাকাতি শুরু করে। ডাকাতরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে নৌকায় থাকা যাত্রী ও গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় খেয়াঘাটে একটি নৌকায় ছিলেন চিলমারী থানা-পুলিশের কয়েকজন সদস্য। তবে তারা তখন নির্বিকার ছিলেন।
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ স্থানীয় লোকজন ওই পুলিশ সদস্যদের আটক করেন। পরে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও চিলমারী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের দাবি, দুই নৌকা থেকে ডাকাতরা প্রায় ৪০ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ডাকাতির সময় আহত হয়েছেন একজন। তাকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহত যাত্রীর নাম আমিনুল ইসলাম।
এ বিষয়ে চিলমারী ঘাটের মাস্টার আবু বক্কর সিদ্দিক সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, “ওই এলাকায় বিভিন্ন সময় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। আমরা অনেকবার চিলমারী নৌ থানার কাছে মৌখিক আবেদন করেছিলাম, অন্তত জোড়গাছ হাটের দিন সেখানে কিছু পুলিশ রাখার। কিন্তু তারা (পুলিশ) আমাদের কথা শোনে না। ১০ দিন আগেও সেখানে একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।”
ভুক্তভোগী যাত্রী ও স্থানী বাসিন্দারা জানান, ডাকাতির সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০০-৩০০ মিটার দূরেই ছিলেন নৌ পুলিশের কয়েকজন সদস্য। তবে তাদের কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না। তাই ডাকতেরা ডাকাতি করে তাদের সামনে দিয়েই গুলি ছুড়তে ছুড়তে চলে যায়।
ডাকাতির শিকার একটি নৌকার মাঝি মোসলেম উদ্দিন বলেন, “ডাকাত দলে ১০ থেকে ১৫ জন ছিল। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ও বন্দুক ছিল। ভয়ে কয়েকজন পানিতে লাফ দেন।”
এ ঘটনায় চিলমারী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সেলিম সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে চিলমারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাহেদ খান বলেন, “আমি ঘটনাস্থলে আছি। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলছি। স্থানীয় বাসিন্দারা ভুল বুঝে পুলিশের নৌকা আটক করে রেখেছিলেন, পরে ছেড়ে দিয়েছেন। ব্যবসায়ীরা থানায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



সুনামগঞ্জে যাত্রীবাহী ২ বাস আটকে ডাকাতি, টাকা-মোবাইল ফোন লুট
নারায়ণগঞ্জে ডাকাত সন্দেহে পিটুনিতে যুবক নিহত