বিগত বছরগুলোর মতো এবার বাংলা নববর্ষের দিন প্রথম পহেলা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) থেকে বের হবে “শোভাযাত্রা”। প্রায় তিন যুগ ধরে এটি “মঙ্গল শোভাযাত্রা” নামে চলে আসছে। তবে এ বছর মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে বেশ আলোচনা চলছে।
তবে শোভযাত্রার নামে “মঙ্গল” শব্দটি থাকছে কি-না তা আগামী বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) জানা যাবে।
সেদিন শোভাযাত্রার আয়োজক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানাবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী একথা জানিয়েছেন।
জাতীয়ভাবে চৈত্র সংক্রান্তি এবং বাঙালি ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সভা শেষে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন স্বরাষ্ট্র ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা।
এ সময় সংস্কৃতি উপদেষ্টা জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু শোভাযাত্রার আয়োজক, সংবাদ সম্মেলনে তারাই জানাবেন শোভাযাত্রার নাম আসলে কী হবে।
তিনি বলেন, "নাম কী থাকছে এটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করছেন। ১০ তারিখে সংবাদ সম্মেলনে তারা ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন।”
এ সময় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, আগামী পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষকে ঘিরে নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন
তিনি বলেন, “চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ঘাটতি নেই। রমজান ও ঈদের সময়ের মতো দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকবে। পহেলা বৈশাখে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ঢাবির চারুকলা অনুষদ ১৯৮৯ সাল থেকে পহেলা বৈশাখে শোভাযাত্রা করে আসছে। শুরুতে এটির নাম ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা। নব্বইয়ে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পটভূমিতে অমঙ্গলকে দূর করে মঙ্গলের আহ্বান জানিয়ে শোভাযাত্রার নামকরণ হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা।
জাতিসংঘের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বিজ্ঞানবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর মঙ্গল শোভাযাত্রাকে বিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করে।



