Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অনুমোদন ছাড়া হজ পালনে জরিমানা সাড়ে ৬ লাখ টাকা

ধর্ম মন্ত্রণালয় অনুমোদন ছাড়া হজ পালন থেকে বাংলাদেশিদের বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে

আপডেট : ০২ মে ২০২৫, ০১:৩৭ পিএম

হজ পারমিট বা অনুমোদন ছাড়া হজ পালন করলে দিতে হবে সাড়ে ৬ লাখ টাকা জরিমানা। আর এভাবে অনুমোদন ছাড়া হজ পালনে যারা সহায়তা করবেন, তাদের ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। এ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা, হজযাত্রীদের কল্যাণ এবং বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিবেচনায় দেশে ও সৌদিতে অবস্থানকারী বাংলাদেশিদের প্রতি অনুমোদন ছাড়া হজ পালন থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

এর আগে, সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় বলা হয়, আসন্ন হজ মৌসুমে হজ পারমিট ছাড়া কেউ হজ পালনের চেষ্টা করলে তাকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার সৌদি রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯৪ টাকা প্রায়) জরিমানা গুনতে হবে। আর এ কাজে সহায়তা করলে ১ লাখ রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭২ টাকা প্রায়) পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে।

সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু জরিমানাই নয়, অপরাধ প্রমাণিত হলে আদালতের রায় অনুসারে এরূপ সহায়তাকারীর নিজস্ব যানবাহন বাজেয়াপ্ত করা হবে।

সৌদি সরকার আরও জানিয়েছে, যদি কোনো বিদেশি নাগরিক নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করে কিংবা বৈধ অনুমতি ছাড়াই হজ পালনের চেষ্টা করে, তাহলে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে এবং পরবর্তী ১০ বছর তাকে সৌদি আরবে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

জিলকদ মাসের ১ তারিখ (২৯ এপ্রিল) থেকে জিলহজ মাসের ১৪ তারিখ (১০ জুন) পর্যন্ত এই বিধান কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে হজের অনুমতি ছাড়া পবিত্র মক্কা নগরী বা আশপাশের পবিত্র স্থানগুলোতে কেউ প্রবেশ কিংবা অবস্থান করতে পারবেন না। বিশেষ করে যারা ভিজিট ভিসা নিয়ে সৌদি আরবে প্রবেশ করেছেন, তাদের ওপর সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারি থাকবে।

সৌদি আরবের এমন ঘোষণার পর চলতি হজ মৌসুমে ভিজিট ভিসায় মক্কা কিংবা সে দেশের পবিত্র স্থানগুলোতে অবস্থান না করতে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নির্দেশনা দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া, হজ বিধিমালা অমান্যকারী ভিজিট ভিসাধারীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া, পরিবহন করা, সংরক্ষিত হজ এলাকায় প্রবেশে সহায়তা করা এবং তাদের হোটেল কিংবা বাড়িতে আবাসনের ব্যবস্থা করা থেকে বিরত থাকতেও বাংলাদেশিদের অনুরোধ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ বছর হজযাত্রীদের মক্কায় প্রবেশ সুগম করা, অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে নতুন বিধিমালা জারি করেছে সৌদি সরকার। এই বিধিমালা অনুসারে সে দেশের পবিত্র স্থানগুলোতে কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ অনুমতিপত্র, মক্কায় নিবন্ধিত বসবাসের প্রমাণপত্র (ইকামা) এবং সরকারিভাবে ইস্যু করা হজ পারমিট থাকলেই কেবল মক্কায় প্রবেশ করা যাবে।

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “হজের সুষ্ঠু ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার স্বার্থে সৌদি সরকার ঘোষিত আইনকানুন ও বিধিনিষেধ অনুসরণ করা আবশ্যক। মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর স্বার্থে সুষ্ঠু ও সাবলীল হজ ব্যবস্থাপনায় ভূমিকা রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

অননুমোদিত হজ পালন থেকে বিরত থাকতে বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ধর্মসচিব এ কে এম আফতাব হোসেন প্রামাণিক বলেন, “হজ একটি দ্বিরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও টিমওয়ার্ক। সৌদি আরব এবং মুসলিম দেশগুলোর তত্ত্বাবধানে ও ব্যবস্থাপনায় হজ পরিচালিত হয়। তবে হজ-সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী বিষয়ে সৌদি আরব মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে। সুপরিকল্পিত কর্মসূচি, আইনকানুনের যথাযথ প্রয়োগ ও অংশীজনের সহযোগিতা ছাড়া সুশৃঙ্খল হজ ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়।”

   

About

Popular Links

x