Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ড্যাপ বাতিলের দাবিতে ভূমি মালিকদের রাজউক ঘেরাও

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে

আপডেট : ২০ মে ২০২৫, ০১:১৪ পিএম

ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) বাতিল ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে রাজউকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও করেছেন ঢাকার বিভিন্ন স্থানের ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকরা।

তারা বলেন, যে ড্যাপ কৃষি জমি ধ্বংস করে, জলাধার ধ্বংস করে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনে সেই ড্যাপ বাতিল চাই। আমাদের দাবি আদায় না হলে রাজপথ ছেড়ে যাব না। এ সময় সেখানে ভূমি মালিক, প্রকৌশলী, আবাসন খাত সংশ্লিষ্টসহ কয়েক হাজার ব্যক্তি অবস্থান নেন।

মঙ্গলবার (২০ মে) সকাল সোয়া ৯টার দিক থেকে ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে আয়োজিত রাজউকের প্রধান কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালনকালে এসব দাবি জানান তারা। দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনসহ কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, রাজউক একই এলাকায় ভবন নির্মাণে বৈষম্য করছে এবং এটি দুর্নীতির আখড়া। তারা ভূমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নতুন আইন প্রণয়নের সমালোচনা করেন।

ঢাকা সিটি ল্যান্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক প্রফেসর ড. দেওয়ান এম এ সাজ্জাদ বলেন, “নতুন ড্যাপের কারণে ভূমি মালিকরা ভবন নির্মাণে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। ফলে পাড়া-মহল্লার রাস্তাঘাটগুলো অপ্রশস্তই থাকছে। ফাঁকা জায়গা, সেমিপাকা জায়গা, পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনগুলো অস্থাস্থ্যকর অবস্থায় থেকে যাচ্ছে। সেখানে মাদকসেবন এবং অবৈধ কার্যকলাপসহ পরিবেশ বিপর্যয়কর ও অসামাজিক কাজ হয়ে থাকে। ঢাকা শহরের ৮০% এলাকাকে অপরিকল্পিত রেখে নগরবাসীকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, বারিধারা ও উত্তরা ছাড়া ঢাকা শহরের সব জায়গায় ভবন তৈরির ক্ষেত্রে উচ্চতা এবং আয়তন প্রায় ৫০% কমিয়ে দেওয়া হয়। এভাবে জনগণের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে।”

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কাজী রেজাউল হোসেন বলেন, “রাজউক জনস্বার্থের পরিপন্থী আইন তৈরি করছে এবং অর্থের বিনিময়ে নকশা অনুমোদন করছে। গুলশান ও বারিধারার জন্য এক আইন এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ভিন্ন আইন বৈষম্যমূলক।”

ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকেরা কৃষিজমি ধ্বংসকারী ও জলাধার আইন ভঙ্গকারী ড্যাপ (২০২২-৩৫) বাতিলের দাবি জানান। তাদের দাবি না মানলে রাজউকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগও দাবি করেন তারা। আন্দোলনকারীরা বলেন, দাবি আদায় না হলে লাখ লাখ জমির মালিক নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

নতুন ড্যাপের কারণে দুই লক্ষাধিক ভুমিমালিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকবার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছেন।

   

About

Popular Links

x