রুপালি ইলিশের জন্য চাঁদপুর বিখ্যাত। চাঁদপুরের ইলিশের খ্যাতি দেশের বাইরে বিদেশেও ছড়িয়ে রয়েছে। বর্তমানে অনলাইনেও অনেকেই বিক্রি করছেন “চাঁদপুরের ইলিশ”। তবে সেটি নিয়েও রয়েছে প্রতরণার অভিযোগ। সম্প্রতি ঢাকায় ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে প্রতারক চক্রের ৫ সদস্য।
এই পরিস্থিতিতে চাঁদপুরে থেকে অনলাইনে ইলিশ বিক্রি নামে প্রতারণা বন্ধ করতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে জেলা প্রশাসন।
অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ বিক্রি করতে নিতে হবে জেলা প্রশাসনের নিবন্ধন। এ বিষয়ে গত ১৬ জুন বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, “চাঁদপুর জেলা সুস্বাদু ইলিশ মাছের জন্য বিখ্যাত। ইলিশের সেই স্বাদ অক্ষুণ্ণ রাখা, ইলিশের মূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জেলার মান সমুন্নত রাখার বিষয়ে জেলা প্রশাসন বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়ত উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে।”
এতে আরও বলা হয়, “চাঁদপুর জেলার ইলিশের নাম করে বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ী ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে প্রতিনিয়ত দেশবাসীকে প্রতারণা করে যাচ্ছে। চাঁদপুরের জেলা প্রশাসন এ ধরণের প্রতারণা বন্ধে ইলিশ মাছ অনলাইন ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।”
ইলিশের অনলাইন ব্যবসার জন্যে আগ্রহী প্রার্থীদেরকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে যোগ্যতা সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরম এ আবেদন করতে হবে এবং বর্ণিত কাগজপত্র দাখিল করার মাধ্যমে নিবন্ধন গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “অনলাইনে ইলিশ বিক্রির নামে প্রতারণার অভিযোগ নিয়মিতই আসছে। এতে সাধারণ মানুষ, প্রবাসী, এমনকি প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাও বাদ যায়নি। তাই প্রতারণা ঠেকাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করছি এর সুফল সারাদেশের মানুষ পাবে।”
এদিকে, “অনলাইনে চাঁদপুরের ইলিশ ক্রয়ে প্রতারক হতে সাবধান!”- এমন সচেতনতামূলক একটি প্রচারণাও চালিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। সেখানে একটি হটলাইন নম্বর (০১৩২০১১৬৮৯৮) দিয়ে অনলাইন ক্রেতাদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, “ইলিশ মাছ কেনার সময় সতর্ক থাকুন, ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতি অর্থাৎ মাছ হাতে পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করুন।”
এতে আরও বলা হয়, “ইলিশ মাছের লোভনীয় অফার দেখে প্রতারণার ফাঁদে পা দেবেন না এবং কোনোভাবেই পণ্য পাওয়ার আগে টাকা পাঠাবেন না।”



নদীর তাজা ও আসল ইলিশ চিনবেন যেভাবে