নানা ধরনের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, হাওড়ে আর হাউসবোট যেতে পারবে না। এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানিয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওড়ে পর্যটকদের ভ্রমণে কোনো বাধা নেই। তবে এড়িয়ে চলতে হবে কিছু এলাকা।
সোমবার (২৩ জুন) সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বরত) মোহাম্মদ রেজাউল করিম সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য জানান।
তিনি বলেন, “টাঙ্গুয়ার হাওড় ভ্রমণে পর্যটকদের কোনো বাধা নেই। তবে ওয়াচ টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় হাউসবোট আপাতত যেতে পারবে না। এছাড়া পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো কাজ করা যাবে না।”
এ বিষয়ে পরিবেশ ও হাওড় উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, “পর্যটকরা হাউসবোট বাইরে রেখে স্থানীয়দের ছোট ছোট নৌকায় করে ওই এলাকা ঘুরে দেখবেন। এছাড়া শহিদ সিরাজ লেক (নিলাদ্রী), বারিক টিলা, জাদুকাটা নদী, শিমুলবাগান ঘুরতে পারবেন। আমরা মনে করি, হাওড়ে প্রকৃতি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে।”
এর আগে গত ২২ জুন রাতে টাঙ্গুয়ার হাওড়ের ওয়াচ টাওয়ার এলাকায় হাউসবোট প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্বরত) মোহাম্মদ রেজাউল করিম সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, টাঙ্গুয়ার হাওড় এলাকা প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতি রোধকল্পে হাওড়ের ওয়াচ টাওয়ার ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকবাহী হাউসবোটের যাতায়াত পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। একইসঙ্গে পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কাজ থেকে বিরত থাকতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এর একদিন আগেই টাঙ্গুয়ার হাওড়ে ঘুরতে আসা পর্যটকদের জন্য “অবশ্য পালনীয়” ১২টি নির্দেশনা জারি করে প্রশাসন।
সুনামগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে জেলার তাহিরপুর ও মধ্যনগর উপজেলায় এই হাওড়ের অবস্থান। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট। এই হাওড়ের আয়তন ১২,৬৫৫ হেক্টর। হাওড়ে ছোট-বড় ১০৯টি বিল আছে। তবে প্রধান বিল ৫৪টি। হাওড়ের ভেতরে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য খাল ও নালা। বর্ষায় সব মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। তখন হাওড় রূপ নেয় সমুদ্রে।



