জুলাই-অভ্যুত্থান কেন্দ্রিক ৩টি দিবস ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন ৫ আগস্টকে “জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস” ঘোষণা করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের দিনটিকে “নতুন বাংলাদেশ দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া গণ-আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদের নিহত হওয়ার দিন ১৬ জুলাইকে “শহিদ আবু সাঈদ দিবস” ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার (২৫ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে বলে সরকারের এক তথ্য বিবরণীতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, সরকার ঘোষিত নতুন বাংলাদেশ দিবস নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষস্থানীয় তিন নেতা- সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আপত্তি ও প্রতিবাদের মুখে দিবসগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার কথা ভাবছে সরকার। উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া একথা জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলা।
আসিফ মাহমুদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, দিবসগুলোর বিষয়ে দুই-একদিনের মধ্যে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিতে প্রবেশে প্রচলিত কোটা প্রথার সংস্কারের দাবিতে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ১৬ জুলাই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রথম নিহত হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। যিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ হিসেবে স্বীকৃকি পান।
এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গণ–অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। পরবর্তী সময়ে ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়।
এ আগে সরকারের তথ্য বিবরণীতে ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস “ক” শ্রেণিভুক্ত এবং অপর দুটি দিবস “খ” শ্রেণিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
সরকারি তথ্য বিবরণী প্রকাশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এনসিপির তিন নেতা দিবসটিকে ঘিরে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, ‘‘নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ৫ আগস্ট। ৮ আগস্ট না। ৫ আগস্টের সাধারণ ছাত্র-জনতার এই অর্জনকে সরকারের কুক্ষিগত করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।’’
আখতার হোসেন লেখেন, “নতুন বাংলাদেশ দিবস সেদিন হবে, যেদিন জুলাই ঘোষণাপত্র আসবে, যেদিন মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে জুলাই সনদ হবে।”
সারজিস লেখেন, “৮ আগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতা শুরু হয়নি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা নষ্টের, ছাড় দেওয়ার এবং বিপ্লব বেহাতের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস এবং দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস।”
তবে নতুন বাংলাদেশ দিবস ছাড়া অন্য দিবস দু'টির ব্যাপারে উল্লেখযোগ্য কোনো আপত্তি দেখা যায়নি।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ শাহান বিবিসি বাংলাকে বলেন, "কেবল নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ ছাড়া ৮ আগস্ট দিনটির আর বিশেষ কোনো তাৎপর্য নেই।”
অধ্যাপক শাহানের মতে, দিবস ঘোষণার মধ্য দিয়ে মূলত সরকার তার লিগ্যাসি (উত্তরাধিকার) রাখার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, "কিন্তু, সেটা তো করবে কাজের মধ্য দিয়ে। যদি অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, তাহলে এই সরকারকে একটা ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে। তার জন্য একটা আস্ত দিবস রাখা তো অর্থহীন।”
এদিকে, সরকার গঠনের দিন একটি বিশেষ দিবস হিসেবে পালিত হওয়া উচিত কি-না, বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে এমন প্রশ্ন করা হয় জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে।
জবাবে তিনি বলেন, "উচিত কি উচিত না সেটা বলা আমার দিক থেকে ঠিক হবে না।”
তিনি আরও বলেন, "দিবসগুলোর বিষয়ে সরকার পুনর্বিবেচনা করছে। দুয়েক দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত আসতে পারে।”
আসিফের জানান, অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই যেকোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে নমনীয়। সবার মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করে আসছে।



