লালমনিরহাটে পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুইজনকে সাজা দেওয়ার পর পাটগ্রাম থানায় হামলা ও সাজাপ্রাপ্তদের ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দণ্ডপ্রাপ্ত বেলাল হোসেনসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৫ জুলাই) রাতে পাটগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান লালমনিরহাট গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদ আহমেদ।
গ্রেপ্তার বাকিরা হলেন- জুলফিকার আলী (২৩), খায়রুল ইসলাম (৩৮), মিজানুর রহমান (৩৩) ও লাজু (৩০)।
ওসি সাদ আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামি বেলাল হোসেনকে আটক করা হয়। তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাসের সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন। থানা চত্বরে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল।”
তিনি জানান, মামলার সময় ছিনিয়ে নেওয়া আরেক সাজাপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পৃথক আরেকটি মামলায় হাতীবান্ধা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নুরুন্নবী কাজলসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে, পুলিশ জানায়, বুধবার (২ জুলাই) রাত সোয়া ১১টার দিকে জেলার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম থানায় ঢুকে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেয় স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা। পাথরবাহী ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতে শ্রমিক দলের দুইজনকে সাজা দেওয়ার ঘটনার পর এ হামলা ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই পাশের হাতীবান্ধা থানা ও বড়খাতা হাইওয়ে থানা থেকে পাটগ্রামে পুলিশ পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হলেও স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। পরে পাটগ্রামে বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বিএনপির নাম ভাঙিয়ে কতিপয় দুষ্কৃতিকারী এ ঘটনা ঘটায়।



লালমনিরহাটে থানায় হামলা-ভাঙচুর, আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ