Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা ভেঙে সংঘর্ষে নিহত ২

জেলার নবীগঞ্জে চার ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০০

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ১২:০৪ পিএম

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় ১৪৪ ধারা ভেঙে চার গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দু’জন নিহত এবং উভয়পক্ষের কমপক্ষে শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

এছাড়া, অন্তত ৫০টি দোকান, একাধিক যানবাহন ও বেসরকারি হাসপাতাল ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

সোমবার (৭ জুলাই) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত উপজেলার আনমনু, পূর্ব তিমিরপুর, পশ্চিম তিমিরপুর ও চরগাঁও গ্রামের বাসিন্দারা এ সংঘর্ষে জড়ান।

নিহতরা হলেন- তিমিরপুর গ্রামের ফারুক মিয়া (৪২) ও আনমুন গ্রামের বাসিন্দা লিমস মিয়া (২৫)। এর মধ্যে ফারুক মিয়া পেশায় অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দুইপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে একে অন্যকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও দেশীয় অস্ত্র নিক্ষেপ করলে বাজার রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় একটি চক্র হামলা চালিয়ে পরিকল্পিতভাবে লুটপাট করে। আগুনে পুড়ে যায় কয়েকটি দোকান ও যানবাহন। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি আনমনু গ্রামের আশাহিদ আলী আশার সঙ্গে তিমিরপুরের খসরু মিয়া তালুকদারের বিরোধের জেরে উত্তেজনা চলছিল। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দু’পক্ষ নিজ নিজ এলাকায় সভা করে। এরপর সোমবার বিকেলে নবীগঞ্জ শহরের গাজীরটেক পয়েন্টে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন সূত্র জানায়, বিকেল ৪টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রুহুল আমীন ১৪৪ ধারা জারি করেন। তবুও নবীগঞ্জ শহরের গাজীর টেক, মৎস্যজীবী পাড়া, চরগাঁও ও পশ্চিম বাজারে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ছড়িয়ে পড়ে।

রুহুল আমীন বলেন, “১৪৪ ধারা জারি করার পরও দুই হাজারের বেশি মানুষ উত্তেজিত অবস্থায় বাজারে অবস্থান করছিল। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়।”

জানা গেছে, সন্ধ্যা ৭টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হলে এক পর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত হয়। ঘটনা সামাল দিতে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া, বিএনপি নেতা সরফরাজ আহমদ চৌধুরী, জামায়াত নেতা শাহজাহান আলী ও গণঅধিকার পরিষদের আবুল হোসেন জীবন স্থানীয়ভাবে উদ্যোগ নিয়েছেন।

নবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মো. কামরুজ্জামান বলেন, “আমরা বিষয়টি সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি। সংঘর্ষ ও লুটপাটের বিষয়ে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। পুরো বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।”

তিনি জানান, শহরে শান্তি শৃংখলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। বতর্মানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

   

About

Popular Links

x