সিলেটে ছয় দফা দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘট শুরু করেছে জেলার সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। ধর্মঘটের কারণে যাত্রীদের দুর্ভেোগ চরম আকার ধারণ করেছে।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মঘটের কারণে নগরীতে কম পরিমাণে যানবাহন চলাচল করছে। রিকশা, সিএনজি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কার ছাড়া অন্য কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।
যাত্রীরা বাস না পেয়ে জরুরি কাজে কার-মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশা রিজার্ভ করে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছুটছেন। যেসব অটোরিকশা চলাচল করছে সেগুলোও ভাড়া চেয়েছে দ্বিগুণ।
নগরীর হুমায়ূন রশিদ চত্বরে আবদুল আলীম নামের এক যাত্রী ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি ওসমানী নগরের গোয়ালাবাজারে একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। বাস না পেয়ে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করে অফিসে যাচ্ছেন।
অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে ভিড় করেন রেলস্টেশনে। কিন্তু টিকেট না পেয়ে তাদেরকেও ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতে।
রেলওয়ে স্টেশনে আনোয়ার হোসেন নামের এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে তাকে ঢাকায় যেতে হচ্ছে। বাস না পেয়ে রেলের টিকেট কাটতে এসেছিলেন। কিন্তু টিকেট পাননি।
সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন বাস-মিনিবাস, কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, তারা কোনো ধরনের পিকেটিং ছাড়াই শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট পালন করছেন। ধর্মঘটের কারণে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে, ধর্মঘটীদের সঙ্গে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী বিকেল ৩টায় বৈঠকে বসবেন বলে জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক নেতা ময়নুল ইসলাম। প্রশাসনের একটি সূত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাইফুল ইসলাম জানান, সিলেটে শান্তিপূর্ণ ধর্মঘট চলছে।
এর আগে, সোমবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রেস ক্লাবে সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলনে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
তাদের দাবিগুলো হলো:
সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে প্রত্যাহার; বাস মিনিবাসের ক্ষেত্রে ২০ বছর এবং ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যানের ক্ষেত্রে ২৫ ও সিএনজি ইমা ও লেগুনার ক্ষেত্রে ১৫ বছর ইকোনোমিক লাইফ নির্ধারণ করে জারি করা প্রজ্ঞাপন বাতিল; সিলেটের সব পাথর কোয়ারির ইজারা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও সনাতন পদ্ধতিতে বালু মহাল এবং পাথর কোয়ারি খুলে দেওয়া; বিআরটিএ কর্তৃক গাড়ির ফিটনেস সার্টিফিকেট প্রদানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র বাতিল ও গণপরিবহণের ওপর আরোপিত বর্ধিত ট্যাক্স প্রত্যাহার; সিলেটের সব ক্রাশার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ বন্ধ, বিদ্যুতের মিটার ফেরত ও ভাংচুর করা মিলের ক্ষতিপূরণ এবং গাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া পাথর বালুর ক্ষতিপূরণ প্রদান।



