আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও শক্ত অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিএনপিসহ চার রাজনৈতিক দলের নেতারা।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চার রাজনৈতিক দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চারটি দল হলো- বিএনপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন ও যুগ্ম-মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
বৈঠক শেষে রাত ১১টায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলমও উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, সি আর আবরার, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও মো. মাহফুজ আলম উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য কমিশন) মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে গোপালগঞ্জে সহিংসতা এবং মঙ্গলবার সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, গাড়ি ভাঙচুর এবং মাইলস্টোন কলেজে বিক্ষোভসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সব দলের নেতারা একটা বিষয়ে একমত যে সরকার দুর্বল আচরণ করছে। গোয়েন্দা ব্যর্থতা চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও সক্রিয় করতে হবে।
বৈঠক শেষে বিএনপি ও এনসিপির নেতারা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলেননি।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘‘বৈঠকে রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দুটি বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথমটা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষার ক্ষেত্রে সরকার যেন আরও শক্ত অবস্থান নেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের কিছুটা ঘাটতি আছে, সে কথাও তারা বলেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নির্বাচনপ্রক্রিয়ার দিকে সরকারকে সুষ্ঠুভাবে অগ্রসর হওয়া উচিত।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘রাজনৈতিক দলগুলো প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছে, ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে তাদের মধ্যে কোনো রকম মতভিন্নতা, মতবিরোধ নেই। তবে তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, রাজনীতির মাঠে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যে কথা বলার বিষয়টি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ।’’
জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘‘দেশে পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চলছে। গোয়েন্দা ও প্রশাসনিক কিছু দুর্বলতা রয়েছে। এসব দুর্বলতা চিহ্নিত করার জন্য তারা প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারের উচিত প্রশাসনকে আরও কঠোর করা এবং নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রাখা, যাতে যেকোনো ঘটনা ঘটার আগেই সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।’’



