Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টিআইবি: তথ্য ও মানবাধিকার কমিশন গঠনে সরকারের অবহেলা রয়েছে

সরকারের জন্য এটি ‘বিব্রতকর রেকর্ড’ হয়েছে জানিয়ে বিবৃতিতে অবিলম্বে কমিশন গঠনের দাবি করা হয়

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ১০:১৪ পিএম

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর এক বছর হতে চললেও তথ্য কমিশন এবং মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ না নেওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

সংস্থাটি বলেছে, এ দুই প্রতিষ্ঠানের শূন্যতা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি সরকারের অবহেলার একটি অগ্রহণযোগ্য উদাহরণ। এতে সরকারের জন্য বিব্রতকর রেকর্ড হয়েছে। অবিলম্বে কমিশন দুটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।

বুধবার (২৩ জুলাই) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন গঠন সরকারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও মানবাধিকারের প্রতি রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। অথচ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছর হতে চললেও কমিশন দুটি গঠনে কার্যকর উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। কেন দীর্ঘকাল তা গঠিত হচ্ছে না–এর সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যাও নেই। কমিশন দুটি অতীতে যত অকার্যকরতারই পরিচয় দিক, প্রায় এক বছর নেতৃত্বশূন্য রাখার বিব্রতকর রেকর্ড স্থাপনের পাশাপাশি সরকার তার অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও মানবাধিকার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতির প্রতি নির্বিকার অবহেলার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

তিনি বলেন, “এত দীর্ঘ সময় তথ্য কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন নেতৃত্বহীন অবস্থায় রাখা শুধু দুঃখজনক নয়; রাষ্ট্র সংস্কারের দায়িত্বপ্রাপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের মুখ্য ম্যান্ডেটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তা ছাড়া এই শূন্যতার ফলে নাগরিকদের মানবাধিকার নিশ্চিতের ন্যূনতম সুযোগও ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি তার মেয়াদে তথ্যপ্রাপ্তিতে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি বা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার মানুষের প্রতিকার প্রাপ্তির পথ রুদ্ধ রাখতে চায়?”

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “প্রায় এক বছর তথ্য কমিশন না থাকা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতা নয়, বরং তথ্যপ্রাপ্তির সাংবিধানিক অধিকারকে উপেক্ষা করার সামিল। তথ্য কমিশন না থাকায় সরকারি তথ্য না পেলে তার সমাধানে সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়েছে। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিতের যে প্রতিশ্রুতি জানিয়েছিল, তা মূলত ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশে এ ধরনের নজির আগে কখনও দেখা যায়নি। এ অবস্থায় অবিলম্বে কমিশন গঠনের দাবি জানাচ্ছি।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “আইনগত বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও এত দীর্ঘ সময় কমিশন গঠন করতে ব্যর্থতা দেশে মানবাধিকার নিশ্চিতে সরকারের সদিচ্ছার ঘোষণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশে স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তখন দেশের নিজস্ব মানবাধিকার কমিশন শূন্য রাখা দ্বিচারিতার পরিচায়ক।”

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর পদত্যাগ করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদসহ সব সদস্য। এর আগে সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন প্রধান তথ্য কমিশনার ও আরও এক কমিশনার। প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর শীর্ষ পদগুলো শূন্য হওয়ায় তখন থেকেই অকার্যকর এ দুই কমিশন।

   

About

Popular Links

x