Friday, July 31, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চামড়া খাতের উন্নয়নে ২ হাজার কোটি টাকার স্কিম গঠন বাংলাদেশ ব্যাংকের

এ স্কিমের আওতায় চূড়ান্ত পর্যায়ের ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৭% সুদে ঋণ পাবেন

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৬, ০২:২৬ পিএম

দেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানো এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন উৎসাহিত করতে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রি-ফাইন্যান্স স্কিম চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এ স্কিমের আওতায় চূড়ান্ত পর্যায়ের ঋণগ্রহীতারা সর্বোচ্চ ৭% সুদে ঋণ পাবেন। আর অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো ৪% সুদে এই তহবিল পাবে। এতে ব্যাংকগুলো ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে ৩% মার্জিন পাবে।

স্থানীয় উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক বাজারে সম্প্রসারণে সহায়তা করা এবং চামড়া শিল্পকে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্মত খাতে রূপান্তর করাই এ স্কিমের উদ্দেশ্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগের সঙ্গে চুক্তি করার পর সব তফসিলি ব্যাংক এ স্কিমে অংশ নিতে পারবে। এই সুবিধার আওতায় চামড়া শিল্পের পুরো মূল্যশৃঙ্খলে মূলধনী বিনিয়োগ এবং কার্যকরী মূলধনের জন্য অর্থায়ন করা হবে।

খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ট্যানারি ও চামড়াজাত পণ্য কারখানার অবকাঠামো নির্মাণ, যন্ত্রপাতি কেনা, কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত চামড়া সংরক্ষণের জন্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন এবং পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি), ডাম্পিং ইয়ার্ড ও কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা নির্মাণ।

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণগ্রহীতা পর্যায়ের ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ ও ইকুইটির অনুপাত সর্বোচ্চ ৭০:৩০ নির্ধারণ করেছে।

ঋণের সীমার মধ্যে রয়েছে - নতুন ট্যানারি বা বর্জ্য শোধন অবকাঠামোর জন্য সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা, নতুন উৎপাদন ইউনিটের জন্য ২০ কোটি টাকা, বিদ্যমান স্থাপনা উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকা এবং বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণের ভিত্তিতে কার্যকরী মূলধনের জন্য ৩০ কোটি টাকা।

মেয়াদি ঋণের পরিশোধকাল হবে সর্বোচ্চ সাত বছর। এর মধ্যে দুই বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। কার্যকরী মূলধনের ঋণ প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য দেওয়া হবে এবং সন্তোষজনক ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ঋণ লেনদেনের ভিত্তিতে তা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সুবিধার ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ (এলডব্লিউজি) সনদ পাওয়ার প্রমাণ জমা দিতে হবে।

এছাড়া ঋণগ্রহীতাদের ব্যবহৃত বিদ্যুতের অন্তত ১০% সৌরবিদ্যুৎ থেকে সংগ্রহ করতে হবে এবং শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে যাচাইযোগ্য ব্যবস্থা নিতে হবে। রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) কার্যরত টাইপ-বি ও টাইপ-সি কোম্পানিগুলোও এ সুবিধার আওতায় থাকবে।

তবে খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং যারা ইতোমধ্যে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড, এক্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন প্রি-ফাইন্যান্স ফান্ড, গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড বা সরকারের অন্য কোনো বিশেষায়িত অর্থায়ন কর্মসূচির সুবিধা নিচ্ছে, তারা এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাবে না।

   

About

Popular Links

x