Thursday, September 03, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মোবাইল ব্যালেন্সে স্মার্টফোন কেনার সুযোগ, তবে মানতে হবে যেসব শর্ত

এই মুহূর্তে সংশোধিত সীমার আওতায় কেবল গ্রামীণফোনই অনুমোদন পেয়েছে

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০০ এএম

মোবাইল ফোন গ্রাহকদের মাসিক খরচের সীমা ১৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

ডিরেক্ট অপারেটর বিলিং (ডিওবি) সেবার আওতায় এখন থেকে গ্রাহকেরা মোবাইল ব্যালেন্স ব্যবহার করে স্মার্টফোনসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন, যা আগে সম্ভব ছিল না। যাদের ক্রেডিট কার্ড বা ব্যাংক হিসাব নেই, তাদের কেনাকাটায় সহায়তা করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এটি সাধারণ মোবাইল ওয়ালেটের মতো নয় শুধু নির্ধারিত পণ্য ও সেবাতেই এই সুবিধা ব্যবহার করা যাবে।

বিটিআরসি কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, এখন থেকে গ্রাহকেরা স্মার্টফোন, সিমভিত্তিক ডিভাইস, রাউটারসহ অনুমোদিত ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারবেন। ভবিষ্যতে কিস্তিতে স্মার্টফোন কেনার সুযোগও তৈরি হতে পারে, যেখানে মোবাইল ব্যালেন্স থেকেই কিস্তির অর্থ পরিশোধ করা যাবে।

এই মুহূর্তে সংশোধিত সীমার আওতায় কেবল গ্রামীণফোনই অনুমোদন পেয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, অন্য অপারেটররাও চাইলে অনুমোদনের জন্য আবেদন করতে পারবে।

গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ জানান, সরকার স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং কার্ড বা অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধা যাদের নেই, তারা যেন মোবাইল ব্যালেন্স দিয়ে হ্যান্ডসেট কিনতে পারেন এই উদ্যোগ সেই সুযোগ তৈরি করবে।

ডিজিটাল কনটেন্ট ও অ্যাপ কেনা, অনলাইন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ, ই-টিকিটিং, ই-হেলথ সেবা, সরকারি লটারি, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সাবস্ক্রিপশন এবং শিক্ষা প্ল্যাটফর্মসহ অনুমোদিত ডিজিটাল সেবায় গ্রাহকেরা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।

তবে এটিকে অবাধ ডিজিটাল অর্থ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। ভার্চুয়াল মুদ্রা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা গেমের কয়েন, পয়েন্ট, ক্রেডিট, কুপন, ডায়মন্ড কিংবা জেম কেনায় এটি ব্যবহার করা যাবে না। একইভাবে বিনিয়োগ সংগ্রহ, ঋণদান বা অর্থ সংরক্ষণের সুযোগ দেয় এমন অ্যাপেও লেনদেন নিষিদ্ধ। জুয়া, ক্যাসিনো, লটারি, ক্রিপটোকারেন্সি, বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেন, শেয়ারবাজার কিংবা মাল্টি-লেভেল মার্কেটিংয়েও ডিওবি ব্যবহারের অনুমতি নেই।

নন-রেসিডেন্ট মার্চেন্টদের ক্ষেত্রে, যেখানে বৈদেশিক মুদ্রায় অর্থ পাঠাতে হয়, সেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগের অনুমোদন লাগবে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশে ডিওবি সেবা চালু হয়েছিল, তখন বাংলাদেশ ব্যাংক মাসিক সীমা ৬০০ টাকা ও বার্ষিক সীমা ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাময়িকভাবে মাসিক সীমা বাড়িয়ে ২ হাজার ও বার্ষিক সীমা ২০ হাজার টাকা করে, যা চলতি বছরের জুন পর্যন্ত কার্যকর ছিল। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের শর্তসাপেক্ষে বিটিআরসি অপারেটরদের বর্ধিত সীমায় সেবা দেওয়ার অনুমতি দেয়।

অপারেটরদেরই নিশ্চিত করতে হবে গ্রাহকেরা যেন ডিওবির মাধ্যমে সহজে ডিজিটাল পণ্য ও সেবা কিনতে পারেন, পাশাপাশি গ্রাহক সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং রিফান্ড ও চার্জব্যাক নীতিও তাদেরই তৈরি করতে হবে।

পুরো প্রক্রিয়াটি বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণে থাকবে, এবং অর্থপাচার ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় মোবাইল অপারেটরদের রিপোর্টিং সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

   

About

Popular Links

x