Thursday, October 08, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যে কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হয়ে যাচ্ছে দেশের ৬ কোটি মানুষ

বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন তিন কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক

আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৩ পিএম

২০২০ সালে বাংলাদেশকে দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বের 'মডেল' ঘোষণা করেছিল বিশ্বব্যাংক। এর ঠিক দুই বছরের মাথায় ২০২২ সালে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) জানায়, বাংলাদেশে দারিদ্রের হার কমে ৫.৬% এ কমে যাওয়ার কথা।

সেই সময় পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা ২০৩১ সালের মধ্যে পুরোপুরিভাবে দারিদ্র্যমুক্ত হবে বাংলাদেশ বলেও পূর্বাভাস দিয়েছিলেন তারা। অথচ, বাস্তবতা ভিন্ন, কারণ, মাত্র তিন বছরের মাথায় অর্থাৎ ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ১০.১% মানুষ  দরিদ্র হয়ে গেছে বলে জানায় বিশ্বব্যাংক।

তার এক বছরের মধ্যে, আবারও “প্রত্যাশিত গতিতে এগুতে পারছে না বাংলাদেশের অর্থনীতি” বলে সতর্ক করলো বিশ্বব্যাংক। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা এখন তিন কোটি ৫০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে বলে অনুমান করছে সংস্থাটি।

খুব শীঘ্রই দেশের ৬ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে দরিদ্র হয়ে যাবে বলেও আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি। 

২০২৬ সালে এসে হঠাৎ কী এমন হলো যে, এমন সতর্কবার্তা দিতে হলো সংস্থাটিকে?

কোভিড মহামারি, জ্বালানি সংকট, মুদ্রাস্ফীতি, বিনিয়োগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং কর ও ভর্তুকি পদ্ধতিতে দুর্বলতার কথা এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করছে সংস্থাটি।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ নিয়ে বেশ কয়েক কারণ উল্লেখ করেছে। 

প্রবৃদ্ধিতে বড় ধাক্কা

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি কমার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। কয়েক বছরের ব্যবধানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস বলছে, চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে।

আয় কম, ব্যয় বেশি

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ধীরগতির প্রভাব পড়েছে মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানে। অন্যদিকে নিত্যপণ্য, জ্বালানি ও বিদ্যুতের বাড়তি খরচে সংসারের ব্যয় বেড়েছে। ফলে অনেক পরিবার সঞ্চয় ভেঙে কিংবা ঋণ নিয়ে দৈনন্দিন খরচ মেটাচ্ছে।

নতুন করে বাড়ছে দারিদ্র্য

আয় ও ব্যয়ের এই ব্যবধানের প্রভাব পড়ছে দারিদ্র্যের ওপর। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালে দেশে মোট দারিদ্র্যের হার প্রায় ২২ দশমিক ৫ শতাংশে উঠেছে। অর্থাৎ কয়েক কোটি মানুষ এখন দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে।

বিনিয়োগে স্থবিরতা

ব্যবসা ও শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ছে না। ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট এবং সামগ্রিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থানের ওপর।

সহায়তার সুফল নিয়ে প্রশ্ন

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থাকলেও এর বড় অংশের সুবিধা দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিদ্যুৎ ভর্তুকির ক্ষেত্রেও বেশি ব্যবহারকারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাচ্ছেন।

লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার পরামর্শ

অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সাধারণ ভর্তুকির পরিবর্তে প্রকৃত দরিদ্রদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডসহ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সঠিক বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্য কমানো সম্ভব বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক।

স্থিতিশীলতা ফেরানোর চ্যালেঞ্জ

সরকার বলছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোই এখন অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। 

   

About

Popular Links

x