Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ইভ্যালির রাসেলকে ছাড়া সার্ভারের অ্যাক্সেস দেবে না অ্যামাজন

শামীমা নাসরিনের দাবি, ইভ্যালির সার্ভারগুলোতে অ্যাক্সেসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দেনার পরিমাণ নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে মোহাম্মদ রাসেলকে ছাড়া সার্ভারে অ্যাক্সেস দেবে না অ্যামাজন

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২২, ০৯:৩০ পিএম

ইভ্যালির সহ-উদ্যোক্তা শামীমা নাসরিন জানিয়েছেন, ইভ্যালির দেনা ও দায়ের পরিমাণ নির্ধারণের জন্য প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেলকে কারাগার থেকে মুক্তি দিতে হবে।

যদিও দেনার পরিমাণ নির্ণয়ের বিষয়টি সার্ভারের পুনরুদ্ধারের ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। তাছাড়া, ব্যাপারটি বেশ সময়সাপেক্ষ বলেও জানান শামীমা নাসরিন।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ইভ্যালির সহ-উদ্যোক্তা শামীমা নাসরিন এসব কথা বলেন। 

প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলবে, তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম কেমন হবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী, এসব বিষয় জানাতে এই অনলাইন সংবাদ সম্মেলন করে ইভ্যালি।

ইভ্যালির অ্যাকাউন্টগুলোতে বড় ধরনের নগদ অর্থের সন্ধান পায়নি হাইকোর্টের ঠিক করে দেওয়া ইভ্যালির পাঁচ সদস্যের পরিচালনা বোর্ড। পরে আদালতে একটি অডিট রিপোর্ট পেশ করেন তারা। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ পাচারের বিষয়ে তদন্তের পরামর্শ দিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন তারা।

হাইকোর্ট-নিযুক্ত পরিচালনা বোর্ডের মতে, ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি প্রায় প্রতিদিনই ব্যাংকের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট থেকে যে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ তুলে নিয়েছিল, তা খুঁজে পাওয়া যায়নি। হয়তো সেই অর্থ পাচার করা হয়েছে।

তবে অর্থপাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে শামীমা নাসরিনের দাবি, ইভ্যালির সার্ভারগুলোতে অ্যাক্সেসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের দেনার পরিমাণ নিশ্চিত করা যেতে পারে। তবে মোহাম্মদ রাসেলকে ছাড়া সার্ভারে অ্যাক্সেস দেবে না অ্যামাজন।

এ পর্যন্ত অর্থ আত্মসাতের ৯টি মামলায় জামিন পেয়েছেন মোহাম্মদ রাসেল। তবে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিরুদ্ধে অন্যান্য মামলা বিচারাধীন থাকায় তাকে এখনো মুক্তি দেওয়া হয়নি।

শামীমা নাসরিন জানান, গত বছর র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) পরিচালিত অভিযানের পর ইভ্যালির কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়নি, যার কারণে সেখানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। ফলে অনেক পণ্যের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ও দলিল-দস্তাবেজও হারিয়ে যাওয়ায় অডিট টিমকে তা সরবরাহ করা যায়নি।

তিনি বলেন, “র‌্যাব যেদিন আমাদের গ্রেপ্তার করে, সেদিন বিকেলে র‍্যাবের আরেকটি দল ইভ্যালির অফিসে অভিযান চালায় এবং কোনোকিছু বলার সুযোগ না দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আমাদের সব কর্মীকে বের করে দেয়। র‍্যাব কিছুক্ষণ আমাদের অফিসে অবস্থান করে এবং চাবির দায়িত্ব কাউকে না দিয়েই অরক্ষিত অবস্থায় অফিস খোলা রেখে চলে যায়।”

ইভ্যালির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, অফিস প্রাঙ্গণটি বেশ কয়েকদিন ধরে অরক্ষিত এবং খোলা থাকায় অফিসের আসবাবপত্র, কম্পিউটার, ল্যাপটপ এবং ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম এবং সেই সঙ্গে নথিপথ এবং রেজিস্টার লুটপাট করা হয়েছিল।

শামীমা নাসরিনের ভাষ্যমতে, হাইকোর্ট-নিযুক্ত পরিচালনা বোর্ড ঘটনাটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে এবং এর আগে অফিসে সব লেনদেন এবং ব্যয়ের হিসাব যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল। 

যদিও এর আগে অডিটররা জানিয়েছিলেন, ইভ্যালি ছয় হাজার কোটি টাকারও বেশি লেনদেন করলেও সঠিকভাবে তার কোনো হিসাব রাখেনি। তাছাড়া, যেসব ক্রেতারা ইভ্যালিকে অগ্রিম টাকা দিয়েছে, তাদের কিংবা ব্যবসায়ীদের কোনো টাকাও রাখা হয়নি। 

প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইভ্যালির সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির সাবেক চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বছরের এপ্রিলে জামিনে মুক্তি পান শামীমা নাসরিন।

এক বছর নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসার সুযোগ পেলে ইভ্যালি তাদের দেনা পরিশোধ করতে পারবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন শামীমা নাসরিন। এ কারণে অক্টোবরের দ্বিতীয় ভাগ থেকেই কার্যক্রম শুরু করতে চায় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটি।

About

Popular Links