২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭.৫% হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
বৃহস্পতিবার (১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উত্থাপনে এ কথা জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আশা করি আগামীতে আমরা উচ্চ প্রবৃদ্ধির গতিপথে ফিরে আসব। আগামী অর্থবছরে আমরা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৭.৫% অর্জন করবো।
উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ, উত্পাদনশীলতা অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এটি অর্জন সম্ভব বলেও জানান তিনি।
মুস্তফা কামাল বলেন, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য, আমরা ধীরে ধীরে সংকোচনের নীতি থেকে বেরিয়ে আসব। মেগা-প্রকল্পগুলোসহ চলমান ও নতুন প্রবৃদ্ধি-প্ররোচিত প্রকল্পগুলোতে বিনিয়োগ করব
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ৬.৩% উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উন্নত অবকাঠামো, নিরবচ্ছিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা, আর্থিক প্রণোদনা, ব্যবসা করার সহজ পরিবেশ সৃষ্টিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে। সমন্বিত বিনিয়োগ-বান্ধব পরিবেশ দিয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগের সুবিধা অব্যাহত থাকবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনার সংস্কার বিনিয়োগ/ব্যবসায়িক প্রক্রিয়াকরণে সময়, ব্যয় এবং জটিলতা হ্রাস করবে।
চলতি অর্থবছরে বেসরকারি বিনিয়োগ কিছুটা কমলেও আগামী অর্থবছরে জিডিপির ২৭.৪% বৃদ্ধি পাবে, যোগ করেন তিনি।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান নিশ্চিত ও “স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার প্রয়াসে গুরুত্ব দিয়ে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ৭ লাখ ৬১ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। বাংলাদেশের প্রথম বাজেট উত্থাপন করেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরের ওই বাজেটের পরিমাণ ছিল ৭৮৬ কোটি টাকা।
সবশেষ বাজেটটি আগের বাজেটের চেয়ে ১২.৩৪% বড়। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৬,৭৮,০৬৪ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছিল।
২০২৩-২৪ সালে প্রস্তাবিত বাজেট ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদের শেষ বাজেট।
“উন্নয়নের দেড় দশক: স্মার্ট বাংলাদেশের অভিমুখে” শিরোনামে বাজেট বক্তৃতা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।
ব্যবসা সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনগণের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।



