Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চাকরির প্রতিযোগিতায় নামেনইনি সাগর, মাশরুম চাষে সফল

বছরে তার খামারের বিক্রি প্রায় ২২ লাখ টাকা

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৩, ০৪:১৬ পিএম

ইচ্ছাশক্তি যেকোনো প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করতে পারে, এ কথার চাক্ষুষ উদাহরণ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাগর হোসেন (২৫)। পড়াশোনার পাশাপাশি মাশরুম চাষে সফল এই তরুণের বার্ষিক বিক্রি প্রায় ২২ লাখ টাকা।

এভাবে ছাত্রজীবনেই সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন সাগর।

তার বাড়ি উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের হোগলা গ্রামে। পড়াশোনা করছেন রাজবাড়ী সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের স্নাতক শেষ বর্ষে। 

সাগর জানান, বছরে ২০-২২ লাখ টাকার মাশরুম বিক্রি করেন। লাভ হয় ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা। তার উৎপাদিত মাশরুম রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ক্রেতারা কিনে নিয়ে যান। সাগরের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচ স্থানীয় তরুণের। এই তরুণের সাফল্য এলাকার অনেককেই মাশরুম চাষে আগ্রহী করে তুলেছে।

পড়াশোনার জন্য তিন বছর আগে রাজবাড়ী শহরের একটি মেসে ওঠেন সাগর। তখন শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব তার মনে দাগ কাটে। চাকরির ভয়াবহ প্রতিযোগিতা এড়িয়ে কীভাবে স্বাবলম্বী হওয়া যায় তা ভাবতে শুরু করেন। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন উদ্যোক্তা হওয়ার। 

টেলিভিশনে মাশরুম চাষের ওপর একটি প্রতিবেদন দেখেন সাগর। সেখান থেকে মাশরুম চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি। খোঁজ নিয়ে যুব উন্নয়ন ও  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ নেন সাগর। টিউশনি করে জমানো টাকা ও বাবার কাছ থেকে ধার নিয়ে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগে ২০ শতক জমিতে টিনশেড ঘরে মাশরুমের চাষ শুরু করেন। 

২০২১ সালে যখন খামার শুরু করেন তখন স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি।

শুরুতে লোকের কটাক্ষ পাত্তা না দিয়ে  প্রথম বছরেই ব্যাপক লাভের সম্ভাবনা দেখতে পান সাগর। পরের বছর মাশরুম  চাষের পাশাপাশি বীজ উৎপাদনের কাজও শুরু করেন। এরপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গ্রীষ্ম মৌসুমে তিনি প্রতি মাসে ৪০০-৪৫০ কেজি মাশরুম উৎপাদন করেন। আর শীতকালে মাসে এক থেকে দেড় হাজার কেজি মাশরুম আসে তার খামার থেকে। পাশাপাশি মাসে এক থেকে থেকে দেড় লাখ টাকার বীজ বিক্রি করেন তিনি।

সাগর জানান, তার খামারে কয়েকজন তরুণ সারা বছর কাজ করেন। মাসে তাদের মোট বেতন প্রায় ৫০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে যশোর অঞ্চলের টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের মনিটরিং ও মূল্যায়ন কর্মকর্তা মো. মাসুম আব্দুল্লাহ বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছা থাকায় ছাত্রজীবনেই সফল মাশরুম চাষি হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন সাগর। স্বল্প পুঁজিতে অধিক মুনাফা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ থাকায় কৃষি বিভাগ মাশরুম চাষ বৃদ্ধি এবং আগ্রহীদের প্রশিক্ষণ ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করছে।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতান কুমার মন্ডল বলেন, উদ্যোক্তাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে অ্যাপস ও ম্যাপসের ব্যবস্থা করেছে। এছাড়া প্রয়োজনে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণও দেওয়া হচ্ছে।

   

About

Popular Links

x