দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে ২০২৩ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় ৮২.৬৩ কোটি টাকা অর্থাৎ ২৩% কমেছে।
ডিএসইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২৭৬.৬৬ কোটি টাকা, যা ২০২২ অর্থবছরের ৩৫৯.৩০ কোটি টাকা থেকে কম।
গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত স্টক এক্সচেঞ্জ বা ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট হোল্ডার্স (টিআরইসি) কমিশন সদস্যদের কাছ থেকে সরকার রাজস্ব পায় ১৯২.৫৭ কোটি টাকা। ২০২২ অর্থবছরে যার পরিমাণ ছিল ২৮৬.৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এই অর্থবছরে এ খাতে রাজস্ব কমেছে ৩২.৭৬%।
এদিকে, স্পন্সর-ডিরেক্টর ও প্লেসমেন্ট হোল্ডারদের শেয়ার বিক্রি থেকে রাজস্ব ১৩.৩৪% বেড়ে ২০২৩ অর্থবছরে ৮৪.০৯ কোটি টাকা হয়েছে, যা ২০২২ অর্থবছরের ৭২.৮৭ কোটি টাকা থেকে বেশি।
গত বছরের জুলাই থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত ডিএসইতে ২৪১ দিনে ১.৯১ লাখ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ২০২২ অর্থবছরের ২৪০ দিনে ৩.১৮ লাখ কোটি টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছিল।
বাজার নিয়ন্ত্রকদের মতে, সারা বছর শেয়ারের দাম কমতে থাকায় সরকার ডিএসই থেকে ৮২ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব হারিয়েছে। তারা বলছেন, ডিএসইর শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ বছরে ৩৯.৯৩% বা ১.২৭ লাখ কোটি টাকা কমেছে। লেনদেন কমে যাওয়ার কারণ ছিল বেশিরভাগ শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস আটকে যাওয়া।
ডিএসইর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৪০৩ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় ২১০-২১৫টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ও বন্ড ফ্লোর দামে আটকে আছে।
ডিএসই টিআরইসি হোল্ডারদের কমিশন ও শেয়ার বিক্রয়ের ওপর যথাক্রমে ০.০৫% ও ৫% হারে কর সংগ্রহ করে এবং তা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
ডিএসই ২০১১ অর্থবছরে ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৪৭ কোটি টাকার রাজস্ব জমা দিয়েছিল।
কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে ব্যবসায়িক স্থগিতাদেশের কারণে ২০২০ অর্থবছরে ডিএসই থেকে সরকারের আয় ১০ বছরের মধ্যে কমে ১০৪ কোটি টাকায় নেমে আসে।



