Friday, June 05, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শেষ সাত মাসে বেড়েছে পোশাক রপ্তানি

মোট পোশাক রপ্তানিতে অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা বেড়েছে

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৫৯ পিএম

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) পোশাক রপ্তানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানিতে রপ্তানি কিছুটা কমেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে রপ্তানিতে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) ও বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) তথ্য বলছে, এই সাত মাসে ২৮.৩৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

আগের অর্থবছরের একই সময়ে ২৭.৪১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি থেকে এ বছরের সাত মাসে ৩.৪৫% প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

যদিও এই সময়ে দেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি গন্তব্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি ৩.৯% কমে আয় এসেছে ৪.৭৯ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে আয় ছিল ৪.৯৮ বিলিয়ন ডলার।

আবার অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে রপ্তানি কমেছে দ্বিতীয় বৃহত্তম গন্তব্য জার্মানিতেও। যেখানে আগের বছর জুলাই-জানুয়ারিতে রেকর্ড ৪.০৬ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল বাংলাদেশ। সেখানে এবার এসেছে ৩.৫১ বিলিয়ন ডলার।

ইপিবি বলছে, দেশের পোশাক খাতের তৃতীয় সর্বোচ্চ গন্তব্য যুক্তরাজ্যে রপ্তানি ১২.৯৮% বেড়ে আয় এসেছে ৩.৩১ বিলিয়ন ডলার। যেখানে আগের বছর একই সময়ে আয় হয়েছিল ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার।

প্রধান অন্যান্য রপ্তানি গন্তব্যেও রপ্তানি কিছুটা কমেছে।

তবে ইউরোপের বাজারে রপ্তানি আগের বছরের ১৩.৭৪ বিলিয়ন ডলার থেকে ১.৩২% বেড়েছে।

স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস ও পোল্যান্ডের মতো কিছু প্রধান গন্তব্যে পোশাক রপ্তানি যথাক্রমে ৬.০৬% থেকে ২.১৬ বিলিয়ন ডলার, ৪.২৫% থেকে ১.৭৪ বিলিয়ন ডলার, ১১.৭৭% থেকে ১.২২ বিলিয়ন ডলার ও ২০.৩০% থেকে ১.১১ বিলিয়ন ডলার আয় বেড়েছে।

তবে ইতালিতে রপ্তানি ১.৮১% কমে ১.৩৩ বিলিয়ন ডলার আয় এসেছে।

ইপিবি তথ্য বলছে, এ অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারির মধ্যে কানাডায় রপ্তানি ০.৬৮% বেড়ে ৮৭১.২৭ মিলিয়ন ডলার আয় হয়েছে।

অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্য ছাড়াও জাপান, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ব্রাজিল, মেক্সিকো এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশ অপ্রচলিত বাজার হিসেবে পরিচিত।

অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানি ৫.৪৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা আগের অর্থবছরের ৩.৯৬ বিলিয়ন ডলার থেকে ১১.৬৯% বেড়েছে।

মোট পোশাক রপ্তানিতে সামগ্রিক অপ্রচলিত বাজারের হিস্যা এখন ১৯.২৭%। যা এই সময়ে একক মার্কিন বাজারের ১৬.৯% হিস্যার চেয়ে বেশি।

অপ্রচলিত বাজারের মধ্যে জাপানে রপ্তানি হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের ৯২০.২৬ মিলিয়ন ডলার থেকে ৮.৭৪% বেড়েছে।

অ-প্রথাগত বাজার হিসাবে আবির্ভূত হওয়া ভারতে এই সাত মাসে রপ্তানির নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। যা এখনও চলছে।

ভারত থেকে এই সাত মাসে এসেছে ৫১৬.২৬ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের ৬৬০.৬৪ মিলিয়ন ডলার থেকে ২১.৮৬% কম।

অপ্রচলিত বাজারের প্রধান গন্তব্যের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রপ্তানি যথাক্রমে ২৩% বেড়ে ৭৯১.২৩ মিলিয়ন ডলার ও ১৭.৫৭% বেড়ে ৩৭৮.২১ মিলিয়ন ডলার বেড়েছে।

যা বলছেন রপ্তানিকারকরা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রায় সব প্রতিযোগীর রপ্তানি কমেছে। সেখানেই ভালো করেছে বাংলাদেশ।

যদিও রপ্তানি কমের পেছনে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ঘাটতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং শ্রমিক অসন্তোষের মতো অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে দায়ী করেন তারা।

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউ ধীরে ধীরে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করায় প্রধান গন্তব্যগুলোতে অচিরেই রপ্তানি বাড়বে বলেও ধারণা তাদের।

এর আগে, বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান বলেছিলেন, “চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সঙ্কটের কারণে তাদের প্রায় সব রপ্তানি গন্তব্য মারাত্মক মুদ্রাস্ফীতির মুখোমুখি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সুদের হার বাড়ানো হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমি আশাবাদী, এই অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে প্রচুর পরিমাণে ক্রয়াদেশ আসবে।”

বিজিএমইএর পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “অপ্রচলিত বাজারে বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানে রপ্তানি বাড়ছে। এটি বর্তমান পরিস্থিতিতে সহায়তা করছে।”

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও রপ্তানিতে আলো ফেরাতে নতুন বাজারের দিকে মনোনিবেশ করছেন রপ্তানিকারকরা।

মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “জার্মানির পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগজনক। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং ভূ-রাজনৈতিক উদ্বেগের কারণে ঐতিহ্যবাহী বাজারগুলোতে রপ্তানি প্রভাবিত হয়েছে।”

তিনি বলেন, “ক্রমাগত অপ্রচলিত বাজারে নজর দিতে হবে। ক্রয়াদেশ বৃদ্ধিতে কাজ করতে হবে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে বাজার ঘুরে দাঁড়াবে। আমরা নিরাপত্তা, অবকাঠামো এবং ক্রেতাদের আস্থার সব দিক দিয়েই এগিয়ে থাকায় ওই নতুন পরিস্থিতিতে আমরা সবার চেয়ে ভালো থাকব।”

আগের অর্থবছরে (২০২২-২৩) পোশাক রপ্তানি থেকে বাংলাদেশ ৪৬.৯৯ বিলিয়ন ডলার আয় করেছিল।

   

About

Popular Links

x