অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার কারণে গত মাসে অনেকেই ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উত্তোলন করেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে তা প্রায় ৭০,০০০ কোটি টাকা। কিন্তু সেই অর্থের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখন ব্যাংকে জমা হয়েছে।
রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের (বিবি) গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, এক মাসে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে ফিরে এসেছে।
গভর্নর আরও জানিয়েছেন যে, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য আমানত বীমা প্রকল্পটি ১ লাখ টাকা থেকে দ্বিগুণ করে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমানত বীমার পরিমাণ ১ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আমানতকারীদের ৯৪.৬% সঞ্চয় সম্পূর্ণ সুরক্ষিত হয়েছে।”
“বিশ্বের কোনো দেশই আমানতকারীদের ১০০% অর্থের নিশ্চয়তা দিতে পারে না, আমরাও পারি না। যদি একটি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে যায়, ছোট আমানতকারীরা তাদের টাকা অবিলম্বে ফেরত পাবেন। আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।”
এর আগে, ব্যাংক আমানত বীমা আইন, ২০০০ (আমানত বীমা আইন) আমানতকারীদের ১ লাখ টাকা পর্যন্ত বীমা সুবিধা দিত।
স্কিম অনুযায়ী, যদি কোনো বীমাকৃত ব্যাংক অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়, তাহলে ব্যাংক আমানতকারীকে তাদের জমাকৃত অর্থের সমান পরিমাণ অথবা সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রদান করবে।
অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ কোনো ব্যাংকে কোনো ব্যক্তির একাধিক অ্যাকাউন্ট থাকলে এবং জমার পরিমাণ ১ লাখ টাকার বেশি থাকলেও অর্থ পরিশোধের সীমা ১ লাখ টাকার বেশি হবে না। এখন ২ লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে।
আহসান এইচ মনসুর বলেন, “ইতিমধ্যে ব্যাংকিং খাতে সংস্কার শুরু হয়েছে। তা চলমান আছে। এই মুহূর্তে, আমাদের মূল লক্ষ্য আমানতকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনা।”
আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই
গভর্নর বলেন, “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দ করা হয়নি। হিসাবগুলো যথারীতি চালু থাকবে। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা যাবে। কিছু মানুষ এ সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়েছে, সম্ভবত কিছু ব্যাংক নিজেরাই এটি করেছে।”
গভর্নর জানান, টাস্কফোর্স আগামী দশ দিনের মধ্যে কাজ শুরু করবে।
তিনি বলেন, “টাস্ক ফোর্সের মাধ্যমে, ব্যাংকিং সেক্টরের সমস্যা মূল্যায়ন করা হবে এবং আগের নীতি পর্যালোচনা করা হবে। যদি দেখা যায় যে, কোনো একটি নীতি শুধুমাত্র কিছু ব্যবসায় সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হয়েছে, তাহলে তা বাতিল করা হবে। আর যদি প্রয়োজন হয় তাহলে চালু রাখা হবে।"
তিনি আশ্বস্ত করেন যে ব্যাংকিং খাত পরিচালনায় পরিবারতন্ত্র ভেঙে দেওয়া হবে।
এসএমই ঋণ বিতরণ প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, “এসএমই খাতে ঋণ দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন স্কিমে প্রায় ২০,০০০ কোটি টাকা পড়ে আছে। ব্যাংকগুলো এই তহবিল বিতরণ করতে পারেনি। দেশের এসএমই খাতকে শক্তিশালী করতে আমরা শিগগিরই এই তহবিল বিতরণের ব্যবস্থা করব।”
এস আলমের সম্পদ বিষয়ে তিনি বলেন, “কেউ যদি এস আলমের সম্পদ কিনতে চায়, তবে তাদের নিজ দায়িত্বে কিনতে হবে। যারা ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছে এবং বেনামে ঋণ নিয়েছে তাদের দায় নির্ধারণের চেষ্টা করছি। তাদের সম্পদ বিক্রি করে দায় মেটানো হবে। এখন যদি কেউ সেই সম্পদ কেনে, তার দায় তাদের।”



