Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এক্সপ্লেইনার: গুগল পে আপনার ঠিক কতটুকু কাজে লাগবে?

যদি ভেবে থাকেন গুগল ওয়ালেটের সবগুলো সেবা বাংলাদেশে চালু আছে- তাহলে ভুল ভাবছেন

আপডেট : ২৭ জুন ২০২৫, ০৫:৪০ পিএম

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে প্রযুক্তিগত সেবা “গুগল পে”। তবে আপনি যদি ভেবে থাকেন এর সবগুলো সেবাই আপনি পাবেন, তবে দুঃখিত আপনি ভুল ভাবছেন। বর্তমানে বাংলাদেশে “গুগল পে”-এর ফিচারগুলোর মধ্যে কেবল “ট্যাপ-টু-পে” সুবিধা চালু আছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি কার্ড ব্যবহার না করেই লেনদেন করতে পারেন। সম্প্রতি সিটি ব্যাংক, গুগল, মাস্টারকার্ড ও ভিসা যৌথভাবে এই সেবা চালু করেছে।

অর্থ ট্রান্সফার, অনলাইন শপিং, কিউআর কোড স্ক্যান করে পেমেন্ট করার সুযোগ নেই। আপনি যদি সিটি ব্যাংকের কার্ডধারী হোন, তাহলে আপনি “গুগল ওয়ালেট” অ্যাপ ডাউনলোড করে আপনার কার্ডটি এতে যুক্ত করতে পারবেন। এরপর আপনি সেই কার্ডের মাধ্যমে “গুগল পে” ব্যবহার করে “নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন বা এনএফসি” পেমেন্ট করতে পারবেন।

গত ২৪ জুন গুগল পে উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। এরপর থেকে সিটি ব্যাংকের নতুন এই সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি বিভ্রান্তি তৈরি হয় “গুগল পে” নাকি “গুগল ওয়ালেট” কোনটি বাংলাদেশে চালু হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন সিটি ব্যাংকের কার্ড বিভাগের প্রধান তৌহিদুল আলম। তিনি বলেন, “গুগল পে ও গুগল ওয়ালেটের বিভিন্ন ধরনের ফিচার রয়েছে, যেমন- ফান্ড ট্রান্সফার, কিউআর কোড, অনলাইন কেনাকাটা ইত্যাদি। এর মধ্যে বাংলাদেশে শুধুমাত্র ‘পেমেন্ট’ সার্ভিসটি চালু হয়েছে, সেটা সিটি ব্যাংকের কার্ড গুগল ওয়ালেটে যুক্ত করে ব্যবহার করা যাবে।”

গুগল পে নামে পরিচিত গুগল ওয়ালেট কন্টাক্টলেস লেনদেনে সহায়ক। প্ল্যাটফর্মটিতে `ট্যাপ টু পে` ফাংশন রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সরাসরি কার্ড ব্যবহার না করেই লেনদেন করতে পারে/সংগৃহীত

গুগল ওয়ালেট হলো একটি অ্যাপ, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিরাপদে তাদের কার্ড, পাস, টিকিট ও আইডি সংরক্ষণ করতে পারেন। সিটি ব্যাংকের কার্ড একবার গুগল ওয়ালেটে যুক্ত করলে, ব্যবহারকারী তা দিয়ে বিশ্বের যেকোনো দেশে এনএফসি-সমর্থিত “পিওএস বা (পয়েন্ট অব সেল)” টার্মিনালে গুগল পে প্রযুক্তির মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন।

তৌহিদুল আলম আরও বলেন, “মোবাইল ফোনে গুগল ওয়ালেট অ্যাপ ডাউনলোড দিয়ে সিটি ব্যাংকের কার্ড যুক্ত করতে হবে। এরপর ‘GPay’ দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবেন। তবে ফান্ড ট্রান্সফার এখনই সম্ভব নয়।”

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, গুগল পে-এর পূর্ণ ফিচার চালু করা গেলে বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সম্ভব।

উদাহরণস্বরূপ: কিউআর কোড স্ক্যান করে দোকানে পেমেন্ট, মোবাইল নম্বরে টাকা পাঠানো, রিয়েল টাইমে ব্যাংক ট্রান্সফার, অনলাইন শপিং-এ সহজ পেমেন্ট ইত্যাদি করা যায় গুগল পে-এর মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে ব্যবহারকারীরা শুধুমাত্র সিটি ব্যাংকের কার্ড গুগল ওয়ালেটে যুক্ত করে নির্দিষ্ট জায়গায় এনএফসি-এর মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারবেন (যেখানে গুগল ওয়ালেট সমর্থন করে)।

সংক্ষেপে বললে, গুগল ওয়ালেট হলো ডিজিটাল ওয়ালেট যেখানে আপনি আপনার কার্ড, টিকিট, পাস ইত্যাদি সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন। আর গুগল পে হলো সেই সার্ভিস যার মাধ্যমে আপনি ওই সংরক্ষিত জিনিসগুলো ব্যবহার করে পেমেন্ট করেন, অনলাইন বা ইন-স্টোর।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, ভবিষ্যতে যদি গুগল পে-এর সব ফিচার চালু হয় এবং অন্য ব্যাংকগুলো এতে যুক্ত হয়, তাহলে এটি বাংলাদেশের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড মার্কেটে বড় প্রভাব ফেলবে।

লেনদেন সহজ করার জন্য গুগল ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে কোনো চার্জ নেবে না/সংগৃহীত

ব্যাংকাররা বিশ্বাস করেন যে, যদি গুগল পে ধীরে ধীরে তার সমস্ত সুবিধা খুলে দেয় এবং অন্যান্য ব্যাংক এতে যোগ দেয়, তাহলে বাংলাদেশের ডেবিট এবং ক্রেডিট কার্ড বাজারে এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, চলমান মুদ্রাস্ফীতির চাপের মধ্যে, বাংলাদেশিরা চলতি বছরের মার্চ মাসে ফেব্রুয়ারির তুলনায় দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের লেনদেন ২৭% বা ৭৮৭.৪ কোটি টাকা বেড়ে ৩,৭৫৫.৭ কোটি টাকা হয়েছে। যা আগের মাসে ২,৯৬৮.৩ কোটি টাকা ছিল।

   

About

Popular Links

x